বেঙ্গালুরু: ৯৬ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না। তবে নতুন বলে জশ হ্যাজেলউডের (Josh Hazlewood)  দুরন্ত বোলিংয়ে এক সময় বেশ চাপেই পড়ে গিয়েছিল পঞ্জাব কিংস। শেষমেশ সেই চাপ সামলে দলের বৈতরণী পার করালেন নেহাল ওয়াধেরা (Nehal Wadhera)। ১১ বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতল পঞ্জাব।

এদিন স্বল্প রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামা পঞ্জাব কিংসের দুই ওপেনার শুরু থেকেই বেশ চালিয়ে খেলছিলেন। তবে না প্রভসিমরন সিংহ, না প্রিয়াংশ আর্য, কেউই বড় রান পাননি। তাঁরা যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ রানে সাজঘরে ফেরেন। আরসিবির হয়ে বিশ্ববন্দিত দুই ফাস্ট বোলার ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজেলউড শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন। তাঁদের বলে বলিয়ান হয়েই জয়ের স্বপ্ন দেখছিল আরসিবি। হ্যাজেলউড একই ওভারে শ্রেয়স আইয়ার ও জশ ইংলিসকে ফেরালে সেই আশা আরও খানিকটা বাড়ে। 

আরসিবির ইনিংসের মতোই পঞ্জাব কিংসও নিরন্তর ব্য়বধানে উইকেট হারাচ্ছিল। তবে লক্ষ্য খুব একটা বড় ছিল না। একজন ব্যাটার ক্রিজে দাঁড়ালেই ম্যাচে সহজ জয় চলে আসত। অবশ্য সবসময় যে এটা হয় না, তা পঞ্জাবের থেকে ভাল খুব কম দলই বলতে পারবে। তাঁরাই নিজেদের গত ম্যাচে কেকেআর ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে মাত্র ১১১ রান ডিফেন্ড করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই কাণ্ড যাতে তাঁদের সঙ্গে না ঘটে, সে বিষয়ে তৎপর ছিল পঞ্জাব। দলের হয়ে এগিয়ে আসেন নেহাল। প্রথমে শশাঙ্ক এবং পরে মার্কাস স্টোইনিসের সঙ্গে মিলে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন তিনি। চ্যালেঞ্জিং পিচে মাত্র ১৯ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন ওয়াধেরা। ম্যাচ জিতে নেয় পঞ্জাব।

এই জয়ে লিগ তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এল শ্রেয়স আইয়ারের দল। ১৮ বছর আগে এই মাঠেই আইপিএলের প্রথম ম্যাচে আরসিবিকে হারিয়েছিল কেকেআর। সেই ম্যাচে নাইটদের দলে ছিলেন রিকি পন্টিং। আজ ফের একবার জিতলেন তিনি। তবে এবার ক্রিকেটার নয়, তিনি জয় উপভোগ করলেন ডাগ আউটে বসে। ২০০৮ সালে যেখানে ক্রিকেটার রিকি পন্টিং চিন্নাস্বামীতে আরসিবির প্রথম হার দেখেছিল, সেখানে আজ তাঁর তত্ত্বাবধানে আরসিবিকে এই মাঠে আইপিএলে ৪৬তম পরাজয় উপহার দিল পঞ্জাব কিংস। এক মাঠে এত ম্যাচ আর কোনও দল হারেনি। দিল্লি ক্যাপিটালসকে এই বিষয়ে পিছনে ফেলে অযাচিত রেকর্ড গড়লেন বিরাট কোহলিরা।