লখনউ: এগিয়ে রয়েছে গুজরাত টাইটান্স (Gujarat Titans)। ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে পঞ্জাব কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আইপিএলের প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে গেলেও তাই শুক্রবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারাতে মরিয়া ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB vs SRH)।

ম্যাচে হায়দরাবাদের হারানোর কিছু নেই। তারা আগেই প্লে অফের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে। তবে আরসিবি-র এই ম্যাচ থেকেও অনেক কিছু পাওয়ার ছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ জেতা মানে পয়েন্ট টেবিলের প্রথম দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে কোয়ালিফায়ার ওয়ান খেলার সুযোগ মিলবে। যে ম্যাচে জিতলে সরাসরি ফাইনালে। হারলেও ফাইনালে যাওয়ার আর একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।

অথচ লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হেরেই গেল আরসিবি। হায়দরাবাদের ২৩১/৬ তাড়া করতে নেমে আরসিবি আটকে গেল ১৮৯ স্কোরে। ১৯.৫ ওভারে অল আউট হয়ে গেল তারা। ৪২ রানে ম্য়াচ জিতে নিল হায়দরাবাদ।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল হায়দরাবাদ ব্যাটারদের। শুরুটা করেছিলেন ট্র্যাভিষেক। ট্র্যাভিস হেড আগের ম্যাচে খেলেননি। ফিট হয়ে আরসিবির বিরুদ্ধে মাঠে নামলেন। ১০ বলে করলেন ১৭ রান। মারমুখী মেজাজে ব্যাট করছিলেন অপর ওপেনার অভিষেক শর্মাও। মাত্র ১৭ বলে দুশো স্ট্রাইক রেট রেখে ৩৪ রান করলেন পঞ্জাবের তরুণ। এমন একটি ছক্কা মারলেন যে, মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা স্পনসরদের গাড়ির কাচ ভাঙল। ওপেনারদের দাপটে ৪ ওভারে ৫৪ রান তুলে ফেলে হায়দরাবাদ।

তিন নম্বরে নেমে ফিফথ গিয়ারে ব্যাটিং করতে থাকেন ঈশান কিষাণও। ঝাড়খণ্ডের উইকেটকিপার ব্যাটারকে ছেড়ে দিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। নিলাম থেকে তাঁকে কেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথম ম্যাচেই বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করেছিলেন। তবে তারপর ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছিলেন। শুক্রবার তিন নম্বরে ব্য়াট করতে নেমে ফের বড় রান পেলেন ঈশান। ২৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির দশ ইনিংস পর ফের রান পেলেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁদের দাপটে রানের পাহাড়ে ওঠে হায়দরাবাদ। ২০ ওভারে তোলে ২৩১/৬।

বিরাট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি-র শুরুটা হয় দুর্দান্ত। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন বিরাট কোহলি ও ফিল সল্ট। কিন্তু তাও শেষরক্ষা হল না। ২৫ বলে ৪৩ রান করলেন কোহলি। ৩২ বলে ৬২ করলেন সল্ট। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট ছিল না। ১৩ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তিন নম্বরে নেমে গেল আরসিবি। দুইয়ে উঠে এল পঞ্জাব কিংস।