বেঙ্গালুরু: গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে গতকালের আইপিএল (IPL 2025) ম্যাচে এ মরশুমে প্রথমবার পরাজিত হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB vs GT)। ম্যাচে ব্য়াট হাতে ব্যর্থ হন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। মাত্র সাত রানে তাঁকে সাজঘরে ফেরান তরুণ গুজরাত টাইটান্স বোলার আরশাদ খান (Arshad khan)। তাঁকে আউট করার খেসারত দিলেন আরশাদ। বিরাট-অনুরাগীদের রোষের মুখে পড়লেন আরশাদ। তবে খান নয়, ওয়ারসি। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন বিরাট সমর্থকদের রোষের মুখে পড়েছেন অভিনেতা আরশাদ ওয়ারসি (Arshad Warsi)।
গুজরাতের হয়ে এদিন নিজের প্রথম ওভারেই বিরাট কোহলির বিরাট বড় উইকেট নিয়ে ফেলেন আরশাদ খান। এরপরেই কোহলি-অনুরাগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে আউট করার জন্য ক্ষোভ উগরে দেন। রীতিমতো জবাব চাওয়া হয়, 'কোহলিকে আউট কেন করলেন?' তবে আরশাদ খান না আরশাদ ওয়ারসির পোস্টেই একের পর এক মন্তব্য পড়ে। ভারতীয় মহাতারকার অনুরাগীদের ক্ষোভের শিকার হন রুপোলি পর্দার 'সার্কিট'।
এইটা কিন্তু প্রথম এমন ঘটনা নয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এক অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে কোহলিকে আউট করার পর নিউজ়িল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপ্সও এমনই রোষের মুখে পড়েছিলেন। তবে এবার তো ভুল লোককেই কটাক্ষ করে বসলেন কোহলিভক্তরা।
মঙ্গলবার, আরশাদের বলে শুরুতেই কোহলিকে আউট হওয়ার পর নিরন্তর ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে বড় রান করতে পারেনি আরসিবি। ১৩ বল বাকি থাকতেই সহজেই ম্যাচও জিতে গুজরাত টাইটান্স। তবে ম্যাচে যতই তিনি কোহলির উইকেট নিন। ম্য়াচ শেষে কিন্তু সেই তাঁরই সঙ্গে ছবি তুলতে ছোটেন আরশাদ। বাঁ হাতি ফাস্ট বোলার 'কিং কোহলি'র সঙ্গে ছবি সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করে কোনও রাখঢাক না করেই তাঁকে 'দ্য বেস্ট' অর্থাৎ সর্বকালের সেরা বলে ক্যাপশনে লেখেন।
ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। আইপিএল নিলামের আগে তাঁকে রিটেন করেনি আরসিবিও। এমনকী, মেগা নিলাম থেকেও তাঁকে কেনেনি আরসিবি। গুজরাত টাইটান্স নিলাম থেকে হায়দরাবাদের পেসারকে কিনে নেয়। সেই মহম্মদ সিরাজ জবাব দেওয়ার জন্য বেছে নিলেন আরসিবি ম্যাচকেই। ৪ ওভার বল করে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট। শিকারের তালিকায়? ফিল সল্ট, দেবদত্ত পাড়িক্কল ও লিয়াম লিভিংস্টোন। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়ে যায় আরসিবি। বিরাট কোহলি ব্যর্থ। মাত্র ৭ রান করে ফেরেন। তবু লিভিংস্টোনের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে বোর্ডে ভদ্রস্থ রান তুলেছিল আরসিবি। ১৬৯/৮ তোলেন রজত পাতিদারেরা। যদিও চিন্নাস্বামীর মতো বড় রান ওঠে এরকম মাঠে এই স্কোর যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিলই।
তবে শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমার শুভমন গিলের উইকেট তুলে নেওয়ার পর একটু আশার সঞ্চার হয়েছিল আরসিবি শিবিরে। যদিও সেই আশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাই সুদর্শন ৩৬ বলে ৪৯ রান করেন। বাটলার ৩৯ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। দু'জনে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ বলে ৭৫ রান যোগ করেন। সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। ১৩ বল বাকি থাকতে, ১৭.৫ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের রান তুলে নেয় গুজরাত। ১৮ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শেরফান রাদারফোর্ড।