মুম্বই: ওয়াংখেড়েতে আজ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (umbai Indians vs Sunrisers Hyderabad) প্রথম ইনিংস দেখে মনে হয়েছিল এই পিচে ব্যাট করাটা বেশ কঠিনই হতে চলেছে। তবে মুম্বই ব্যাটাররা প্রমাণ করে দিলেন পিচ চ্যালেঞ্জিং হলেও, ব্যাটিংয়ের অযোগ্য় একেবারেই। সানরাইজার্সকে চার উইকেটে হারিয়ে এবারের আইপিএলে (IPL 2025) নিজেদের তৃতীয় জয় পেল পল্টনরা। বল হাতে দুই উইকেটের পর ব্যাটে ৩৬ রানের ইনিংসে দলের পার্থক্য গড়ে দিলেন উইল জ্যাকস (Will Jacks)। সানরাইজার্স অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দুরন্ত বোলিংয়ে তিন উইকেট নিলেও, শেষমেশ খালি হাতে তাঁকে এবং তাঁর দলকে মাঠ ছাড়তে হল।  

এদিন দুরন্ত মেজাজে রান তাড়া করা শুরু করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সৌজন্যে রোহিত শর্মা। ভারতীয় অধিনায়ককে আজ দুরন্ত ছন্দে দেখাচ্ছিল। মহম্মদ শামির বিরুদ্ধে শুরুতেই একের পর এক বড় শট মারতে থাকেন রোহিত। তবে ঠিক যখন তাঁকে বড় রানের ইনিংসের জন্য সেট মনে হচ্ছিল, তখনই ২৬ রানে প্যাট কামিন্সের ফুলটস বলে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং পার্টনার রায়ান রিকেলটনও ভাল শুরু করে ৩১ রানে আউট হন। রিকেলটনের আউট হওয়ায় ম্যাচে ফেরার সামান্য আশা দেখেছিল সানরাইজার্স। তবে সূর্যকুমার যাদব ও উইল জ্যাকসের পার্টনারশিপ সেই আশায় জল ঢেলে দেয়।

অত্যন্ত আগ্রাসী ও পরিপক্ক ইনিংস খেলেন দুইজনেই। ২৭ বলে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও পূরন করেন। সূর্যকুমারকে ২৬ রানে ফেরান কামিন্স। জ্যাকসও ৩৬ রানে তারই শিকার। সেইসময় ম্যাচ অনেকটাই মুম্বইয়ের নাগালে। হার্দিক পাণ্ড্য ব্যাটে নেমে শুরু থেকেই দুরন্ত ছন্দে ব্যাট করে সানরাইজার্সের জয়ের শেষ আশাটুকুও কেড়ে নেন। তবে ম্যাচের একেবারে দোরগোড়ায় এসেই খানিক বিপত্তিই বটে। ইশান মালিঙ্গা এক রানে দুই উইকেট নেন। তবে এতে ম্যাচ জয় পিছলেও, ফলাফল অন্যথা হয়নি। শেষমেশ ১১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ নিজেদের নামে করে নেয় মুম্বই। ২১ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক বর্মা।

এর আগে প্রথম ইনিংসে, ট্র্যাভিষেক জুটিকে সানরাইজার্সের হয়ে শুরুতে নিজস্ব ছন্দে দেখায়নি। পাওয়ার প্লেতে ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ৪৬ রান তোলে সানরাইজার্স। তবে পাওয়ার প্লের পরেই ৪০ রানে আউট হন অভিষেক। পরের ওভারেই উইল জ্যাকসের বলে ঈশান কিষাণকেও দুই রানে ফেরেন। নাগাড়ে তিন ওভারে তৃতীয় সাফল্য পেয়েই গিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। মিড উইকেটে বড় শট মারতে গিয়ে ধরা দিয়েছিলেন ট্র্যাভিস হেড। তবে পল্টনদের সেলিব্রেশনের মাঝেই বেজে উঠল হুটার। নো বল করেন হার্দিক পাণ্ড্য

তবে জীবনদান পেয়েও হেড তাতে লাভের লাভ তেমন কিছুই করতে পারেননি। অবশেষে ১০০-র কম স্ট্রাইক রেটে ২৮ রানে আউট হন তিনি। হেডকেও ফেরান জ্যাকস। ব্যাটার বদল হলেও, রানের গতি কিন্তু কোনওভাবেই বাড়েনি। নীতীশ রেড্ডি, হেনরিখ ক্লাসেনরাও রান পেতে, ছন্দ পেতে সমস্যায় পড়েন। ১৫ ওভারে কোনওক্রমে শতরানের গণ্ডি পার করে সানরাইজার্স। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ১৯ রানে আউট হন নীতীশ রেড্ডিও।

তবে শেষমেশ ম্যাচের ১৮তম ওভারে চলে ক্লাসেনের ব্যাট ২১ রান উঠে ওভার থেকে। ক্লাসেন ৩৭ রানে আউট হওয়ার সানরাইজার্স আদৌ ১৫০ পার করতে পারবে কি না, সেই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ ওভারে ২২ রান তোলেন কামিন্স ও অনিকেত বর্মা। ১৬২ রানে থামে সানরাইজার্সের ইনিংস।