জয়পুর: অবিশ্বাস্য! অনবদ্য! দুর্ধর্ষ! কোনও বিশেষণই নাকি এই ইনিংসটির জন্য যথেষ্ট নয়। মাত্র ১৪ বছর বয়স। আইপিএলে তাঁর পদার্পণেই বুঝিয়ে দিয়েছিল সে যে তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। এবার নিজের তৃতীয় আইপিএল ম্য়াচেই কেরিয়ারের প্রথম আইপিএল শতরান হাঁকিয়ে ফেলল বৈভব সূর্যবংশী। তাও আবার মাত্র ৩৫ বলে। কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে সেঞ্চুরি হাঁকাল বৈভব। একই সহ্গে আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরানের মালিকও হয়ে গেলেন। তার আগে শুধু রয়েছেন ক্রিস গেল। ২০১৩ সালে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেল।
নিজের ইনিংসে ১১টি পেল্লাই ছক্কা হাঁকায় বৈভব। এছাড়া ৭টি বাউন্ডারিও হাঁকায় সে। ইউসুফ পাঠানের রেকর্ড ভেঙে দিল বৈভব। ২০০৮ সালে রাজস্থানের জার্সিতেই ৩৭ বলে শতরান হাঁকিয়ে ফেলেছিলেন ইউসুফ পাঠান। সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলল বৈভব। লখনউয়ের বিরুদ্ধেও অর্ধশতরানের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্টাম্প আউট হয়ে যেতে হয়। মাঠ ছাড়ার সময়ই কেঁদে ফেলেছিলেন এই কিশোর। রাগটা পুষিয়ে রেখেছিলেন। এদিন যেন প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করছিলেন বৈভব। মাত্র ১৭ বলে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন।
এরপরও নিজের মেজাজ থেকে এতটুকুও সরে আসেননি। অভিজ্ঞ ইশান্ত, সিরাজ থেকে শুরু করে প্রসিদ্ধ, করিম জন্নত কাউকেই ছাড় দেননি বৈভব। মাঠের চারধার ধরে একের পর এক বল পেল্লাই শটে ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়ন ফিরল কিশোর বৈভব। তিনি যখন আউট হলেন তখন রাজস্থানের আর প্রয়োজন ৪৯ বলে ৪৪ রান। হাতের নাগালে ম্যাচ তখন।
সবচেয়ে কমবয়সি ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে শতরানের ইনিংস খেলল বৈভব। করিম জন্নতের এক ওভারে খরচ করলেন ৩০ রান। তিনটি ছক্কা ও তিনটি বাউন্ডারি হাঁকায় বৈভব সেই ওভারে।
ম্যাচের পর প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কোনও কষ্ট হয়নি। বৈভব জানান, "এটা অসাধারণ অনুভূতি। নিজের তৃতীয় আইপিএল ইনিংস খেলতে নেমে প্রথম আইপিএল শতরান হাঁকাতে পারলাম। গত ৩-৪ মাসে যা অনুশীলন করেছি। তার ফল এখন পাচ্ছি। আমি মাঠে সম্পর্কে বেশি কিছু ভাবি না। শুধু বল দেখে মারার চেষ্টা করি। আশা করি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারব আগামীতেও।"