শিলিগুড়ি: চলে গেলেন ভারতী ঘোষ (Bharati Ghosh)। বাংলার বুকে টেবিল টেনিসের 'দ্রোণাচার্য' বলা হত তাঁকে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। শিলিগুড়িতে নিজের শহরেই এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক একাধিক অসুস্থতা নিয়ে ভুগছিলেন এই কিংবদন্তি কোচ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে ভারতী দেবীর। এদিন দুপুর ১২.২০ নাগাদ প্রয়াত হন বাংলা তথা ভারতীয় টেনিসের এই কিংবদন্তি কোচ। তাঁর হাত ধরে উঠে এসেছিলেন অর্জুন মান্তু ঘোষের মত প্রাক্তন টিটি প্লেয়ার। এছাড়াও অসংখ্য প্যাডলারকে নিজে হাতে তৈরি করেছেন ভারতী ঘোষ।
ক্রীড়াজগত থেকে রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিরা ভারতী ঘোষের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। সম্প্রতি ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন মেয়র গৌতম দেব। তাঁর হস্তক্ষেপেই ভারতী ঘোষকে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার এক নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সোমবার সকালে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়ামহলে। রাজ্য সরকারের তরফে ২০১৯ সালে বঙ্গরত্ন ও ২০২১ সালে ক্রীড়া দফতরের তরফে 'ক্রীড়া গুরু' সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে। প্রশিক্ষকের ডিগ্রি না থাকলেও ভারতী ঘোষ শুধু উত্তরের নন, রাজ্যের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস কোচ ছিলেন।
অর্জুন মান্তু ঘোষ ভারতী ঘোষের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জানান, "ভারতী দির প্রয়ান ক্রীড়াজগতের এক অপূরনীয় ক্ষতি। তাঁর প্রশিক্ষণে অনেক তারকা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় উঠে এসেছে।" মেয়র গৌতম দেব বলেন, "খুব খারাপ লাগছে। ভারতীদিকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বার্ধক্যজনিত অনেক সমস্যা ছিল। ক্রীড়াগুরু ও বঙ্গরত্ন সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। খুব খারাপ লাগছে। তাঁর হাতে তৈরি হওয়া অনেকেই প্যারালিম্পিক্সে অংশ নিয়েছে। জীবনের শেষ সময়টা বেশি করে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম প্লেয়ারদের তৈরি করে গিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে ভারতী দি-কে কোনও সম্মান দেওয়া হয়নি। তা দেওয়া উচিৎ ছিল।''