এমন একটা অবস্থা কল্পনা কি আপনি করতে পারেন, যেখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন কালবৈশাখী আসছে, কিন্তু আপনি সেই ঝড়ের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? না, এমন অবস্থার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। কারণ পাগল ছাড়া সকলেই কী করলে ভাল হয়, সেটা বোঝে। আর এবার বিখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা অ্যানথ্রোপিকের সিইও প্রায় সেই একই কথা বললেন সাধারণ মানুষের জন্য।
দারিও আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন যে জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে য বেশিরভাগ মানুষ কল্পনাই করতে পারে না। আর সেই কারণেই মানুষ এখনও বুঝতে পারছে না ঠিক কতটা বিপদ অপেক্ষা করে রয়েছে তাদের জন্য। জিরোধার সহ প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথের একটি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়েই তিনি এই কথা বলেন।
অ্যানথ্রোপিকের সিইওর কথায়, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই মুহূর্তে এমন এক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যা বিশ্বে অর্থনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক বদল নিয়ে আসতে পারে। আর আমাদের সমাজ তার জন্য একেবারেই তৈরি নয়। অর্থাৎ, তিনি কি এটা বলতে চাইছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে আগামীতে লন্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে আমাদের সাধের পৃথিবী?
তিনি আরও বলছেন, এআই সুনামির মতো আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি সুনামি আসছে। কিন্তু তো আমরা ভাবছি ওটা সুনামি নয়, অন্য কোনও কিছু।
এরই মাঝে আমোদেই বলেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই দারুণ কাজ হচ্ছে এআই দিয়েই। কোডিং, অঙ্ক বা একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কাজ চলছে।
অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই এই কথাও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল আরও দ্রুত কোডিং বা একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, আরও সমাজের জন্য বা অন্য কাজে আরও বৃহৎ দায়িত্ব নিতে বা এই দায়িত্বগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পালন করতে আরও অনেকটা বেশি সময় লাগবে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা অবস্থা, তার পরও অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই মনে করেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার গতিও বাড়াবে। অর্থাৎ, যে কোনও কাজের এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন করতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার য সময় লাগবে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ, আসলে তার থেকে অনেক দ্রুতই এই কাজ করতে পারবে এআই।
