নয়াদিল্লি: সাধারণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ হোক বা স্মার্টফোন, RAM না থাকলে চলে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের RAM ব্যবহারে তীব্র আপত্তি জানালেন AI সংস্থা OpenAI-এর কর্ণধার স্যাম অল্টম্যান। সাধারণ মানুষ নয়, RAM-এর আসল জায়গা ডেটা সেন্টার বলে দাবি করলেন তিনি। (DRAM Shortage)
এই মুহূর্তে প্রযুক্তির জগতে Dynamic Random Access Memory এবং অন্যান্য মেমোরি চিপের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই সাধারণ মানুষের RAM ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানালেন স্যাম। তাঁর দাবি, সাধারণ কম্পিউটারে RAM না রেখে, ডেটা সেন্টারের হাতে RAM থাকা উচিত। এতে AI মডেলের প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনা সুষ্ঠ ভাবে চলতে পারে। (PC Memory)
Cheeky Pint পডকাস্টে এমন মন্তব্য করেন স্যাম। তিনি বলেন, “বহু মানুষই লোকাল ইনফারেন্স চান। তাঁরা একরকম ধরেই নিয়েছেন যে সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে, কারণ এখন আমাদের কাছে ওপেন সোর্স মডেল থাকবে, যা নিজেদের কম্পিউটারে চালাতে পারব আমরা। ফলে ডেটা সেন্টারের কোনও কিছুরই আর প্রয়োজন পড়বে না।”
স্যাম আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বরাদ্দের নিরিখে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি খারাপ। কারণ সীমিত পরিমাণ RAM-এর বড় অংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটারে পড়ে রয়েছে এবং তার মাত্র পাঁচ শতাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই যেখানে, এমন পরিস্থিতিতে ক্লাউড প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার কাম্য। কিন্তু অনেকেই এর উল্টোটা ভাবেন।”
আরও পড়ুন: মাউন্ট এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে আগুন, ভস্মীভূত গুড লাক হোটেল, ভিডিও ভাইরাল
আধুনিক কম্পিউটার ডিভাইসের অন্যতম মূল উপাদান RAM. স্মার্টফোন থেকে ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, গাড়ির ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, ভিডিও গেম কনসোলেও RAM-এর প্রয়োজন। অথচ Samsung, SK Hynix-এর মতো কিছু সংস্থাই RAM তৈরি করে, মেমোরি চিপ সরবরাহ করে। ডেটা সেন্টার চালাতে এই মুহূর্তে AI সংস্থাগুলি মেমোরি চিপের প্রয়োজন বেড়ে গিয়েছে। তাদের হাতেই সবার আগে জোগান পৌঁছে যায়। ক্লাউড পরিষেবা প্রধানকারীদের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে তাদের, যাতে অগ্রাধিকার পায় তারা। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত RAM-এর বড় অংশ আগেভাগেই সংরক্ষণ করে রেখেছে সংস্থাগুলি।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’র রিপোর্ট বলছে, ChatGPT-র অভিভাবক সংস্থা OpenAI ২০৩০ সাল পর্যন্ত কম্পিউটিং-পাওয়ার খাতে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরে রেখেছে। Google, Amazon-এর মতো সংস্থাগুলিও একই পথে এগোচ্ছে। এর ফলে RAM-সহ অন্য সরঞ্জামের দামও বাড়ছে হু হু করে। এর ফলে স্মার্টফোন, ল্যাপটপের দামও বাড়ছে। সেই আবহেই স্যাম এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মন্তব্যেই প্রমাণিত যে সিলিকন ভ্যালিতে এই মুহূর্তে বিভাজন বাড়ছে। স্বনিয়ন্ত্রিত AI মডেল বনাম ক্লাউড নির্ভর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মধ্যে সংঘাত চোখে পড়ছে বর্তমানে।
