শিনা হত্যা মামলায় চার্জশিট গঠনের পর পিটারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চাইলেন ইন্দ্রাণী
এই সময়ের মধ্যে শিনা কলেজে পড়াশোনার জন্য মুম্বইতে চলে আসে। ২০১২-তে খুন হয় শিনা।
শিনা ও মিখাইল বোরা ইন্দ্রাণী ও তাঁর সঙ্গী সিদ্ধার্থ দাসের সন্তান। আশির দশকের শেষের দিকে তাঁদের জন্ম হয়। গুয়াহাটিতে বাবা-মা-র কাছে দুই সন্তানকে রেখে প্রথমে কলকাতা ও পরে মু্ম্বইতে চলে যান ইন্দ্রাণী। মুম্বই স্টার ইন্ডিয়ার তত্কালীন বস পিটারের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। শিনা ও মিখাইলকে পিটারের কাছে নিজের ভাই-বোন হিসেবে পরিচয় দেন ইন্দ্রাণী। পরে ইন্দ্রাণী ও পিটার আইএনএক্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
পিটার বলেছেন, তিনি জানতেন না যে, শিনা তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণীর সন্তান। এই হত্যায় তাঁর কোনও ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন পিটার। উল্লেখ্য, গত বছর জেল থেকেই ইন্দ্রাণীকে চিঠি লিখে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন পিটার।
এদিন আদালতকে ইন্দ্রাণী বলেন, তিনি পিটারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চান।কারণ তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আদালত তাঁকে পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
শিনা বোরা হত্যা মামলায় পিটার মুখোপাধ্যয়, ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রাণীর প্রাক্তন স্বামী সঞ্জীব খান্নার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করল সিবিআই-এর বিশেষ আদালত। আজ আদালতে তিন জনের বিরুদ্ধেই খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্য-প্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে এই মামলার সওয়াল জবাব শুরু হবে। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে খুন হন শিনা।
এরইমধ্যে মুম্বইয়ের একটি আদালতকে ইন্দ্রাণী জানিয়েছেন, তিনি তাঁর স্বামী পিটারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চান।
২০০২-এ ইন্দ্রাণী ও পিটারের বিয়ে হয়েছিল। সেটি ছিল উভয়েরই দ্বিতীয় বিবাহ।
উল্লেখ্য, ২০১৫-তে ইন্দ্রাণীর গাড়ির চালক শিনাকে খুনে কথা স্বীকার করে। এই সূত্রে গ্রেফতার করা হয় ইন্দ্রাণীকে। ইন্দ্রাণী নিজের মেয়ে শিনাকে অবশ্য পরিচিত মহলে নিজের বোন বলে পরিচয় দিতেন। শিনা খুনের পর ইন্দ্রাণী সবাইকে বলতেন যে, শিনা আমেরিকায় গিয়েছে।
ইন্দ্রাণীর প্রথম স্বামী সঞ্জীব খান্নাও এই মামলায় অভিযুক্ত। প্রথম বিবাহে ইন্দ্রাণীর রয়েছে বিধি নামের এক কন্যা সন্তান। এদিন চার্জ গঠনের পর তিন অভিযুক্তই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কিন্তু ইন্দ্রাণীর ওই চাল ধোপে টিকল না। এর কারণ পিটারের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান রাহুলের জন্য। শিনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল রাহুলের। পুলিশের কাছে রাহুল দাবি করেছেন, শিনার নিখোঁজ থাকার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত এড়াতেই ইন্দ্রাণী ওই চাল চেলেছিলেন।