কৃষি বিমার টাকা নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মমতার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি জনসভায় বক্তব্য রাখলেন মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘মন্দিরবাজারে যাঁরা খুন হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে সাহায্য। খুন হওয়া ৩ পরিবারকে দেওয়া হল সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র। কন্যাশ্রী যারা পায় তাদের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হয় না। রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে সবাইকে দেওয়া হয় কন্যাশ্রী। কেন্দ্র টাকা দিতে চায় না, আমাদের টাকা তুলে নিয়ে যায়। সেই টাকা সামান্য অংশ রাজ্য পায়। কৃষি বিমার টাকা কেন্দ্র দিয়েছে বলে চলছে প্রতারণা। ২০ টাকা ওরা দেয়, আমরা দিই ৮০ টাকা। এমন কৃষকদের দেখেছ, যে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। নাসিকে কৃষকরা পেঁয়াজের দাম পাচ্ছেন না। আমরা ১ লক্ষ কৃষককে ভাতা দিই। গরিবদের জন্য বিনা পয়সা ৪০ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি। আবাসন প্রকল্পে বাড়ি পেলে কাউকে এক পয়সা দেবেন না। ২ টাকা কেজিতে চাল পেলে, কাউকে এক পয়সা দেবেন না। কুইন্টাল প্রতি ধানের দাম ১৫৫০ থেকে হয়েছে ১৭৫০ টাকা। ধান দিন, চেক নিন প্রথা চালু করছি। কেউ এলে তাঁদের ধান বেচবেন না। ১ কোটি সবুজ সাথী সাইকেল দেওয়া হয়েছে বিনা পয়সায়। সিপিএম সরকার যাওয়ার সময় অনেক দেনা করে গিয়েছে। আগে কংগ্রেস-বামফ্রন্ট সরকার ছিল রাজ্যে, বিজেপি ছিল কেন্দ্রে। ক’টা কাজ করেছে এই সমস্ত সরকার। কোনও সরকার বিনা পয়সায় চিকিত্সা দেয়নি। রেশন দোকানে গিয়ে পয়সা দিলে, তবে জিনিস পেয়েছি। বিজেপি নেতারা আমাদের ভাগ করে দিচ্ছে। মিথ্যা কথা বলে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। হনুমান নিয়ে একবার এক-একরকম কথা বলছে। বাংলায় এসব হয় না, মা দুর্গা-কালী-শিব-ইদ মুবারকের জায়গা হল বাংলা। বাংলায় কোনও ভেদাভেদ হয় না। আমাদের সরকার কৃষকদের পাশে ছিল-আছে-থাকবে। সুন্দরবনে ঠিক করে কাজ করতে হবে, প্রশাসনকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী ২ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় উন্নয়নের কাজ। জেলার উন্নয়নের কাজ পর্যালোচনা করা হবে। ভরসা রাখুন, আস্থা রাখুন, কাজ হবে। গঙ্গাসাগরে মাথাপিছু ৫ লক্ষ টাকা বিমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নোটবন্দির জন্য গোটা দেশে বেড়েছে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব। বাংলায় আমরা বেকারত্ব কমিয়ে দিয়েছি। মন দিয়ে কাজ করুন, মানুষের কথা শুনুন।’
এখান থেকেই তিনি যাবেন গঙ্গাসাগরে। আজ রাতে সেখানেই থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীকাল নামখানায় প্রশাসনিক বৈঠক।

JOIN US ON

Whatsapp
Telegram
Sponsored Links by Taboola