WBCS Exam: WBCS পরীক্ষায় সফল পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে কেশব

রুপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হয়নি। ছোট্ট বয়স থেকে খুঁটে খাওয়ার শিক্ষাই পেয়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি কেশব দাস। তারই ফল পেলেন হাতেনাতে। WBCS পরীক্ষায় সফল পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে কেশব। BDO হিসেবে দায়িত্ব নেবেন শীঘ্রই। দিন আনি দিন খাই পরিবারের ছেলে কেশব এখন হাজার হাজার ছেলেমেয়ের অনুপ্রেরণা। মালদার হরিশচন্দ্রপুরের ছেলে কেশব। বয়স ২৮ বছর। বাড়ি হরদম নগরে। ২০২০ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য WBCS পরীক্ষায় বসেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি ফল বেরিয়েছে তার। তাতে একজিকিউটিভ ‘A’ বিভাগে রাজ্যে ২৭তম স্থান অর্জন করেছেন। শীঘ্রই BDO হিসেবে দায়িত্ব নেবেন কেশব। তাতে শুধু তাঁর পরিবারই নয়, আপ্লুত গোটা গ্রাম। পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে কেশব। বাবা জ্ঞানবানের চাকরি চলে যায় লকডাউনে। তার পর থেকে কখনও দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন, কখনও আবার কারও জমিতে। তাতে যা রোজগার হয়েছে, সংসার চলে না। তার মধ্যেও ঋণ নিয়ে ছেলেকে পড়িয়েছেন। স্ত্রীর ফিনফিনে কানের দুল পর্যন্ত বন্ধক দিয়েছেন। তাঁদের এই ত্যাগ বিফলে যায়নি। ছোট থেকেই মেধাবী কেশব, পরিশ্রমীও। স্নাতকোত্তর পাস করেন কৃতী ছাত্র হিসেবেই। তার পর শুরু হয় WBCS-এর প্রস্তুতি। ল্য়াপটপ তো দূর, একটি সাইকেল কেনারও টাকা ছিল না তাঁর পরিবারের কাছে। সেই অবস্থাতেই পরীক্ষায় বসে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। তাই বাবা-মায়ের মুখে হাসি যেমন ধরছে না, তেমনই কেশবের সাফল্যে উৎফুল্ল গ্রামের মানুষও। দলে দলে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে উপচে পড়ছে ভিড়।

JOIN US ON

Whatsapp
Telegram
Sponsored Links by Taboola