নয়া দিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ট্রেন্ড দেখা যায়। প্রতিদিনই নতুন কোনও না কোনও ভাইরাল ট্রেন্ড ঝড় তোলে ইন্টারনেট দুনিয়ায়। সম্প্রতি এমনই এক ট্রেন্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।                                      

এক চামচ হলুদ, একটি জল ভর্তি কাচের গ্লাস ও মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট! এই তিন নিয়েই ম্যাজিক দেখাচ্ছেন ও সেই ভিডিয়ো পোস্ট করছেন অনেকে। আসলে ব্যাপারটা কী? নয়া এই ট্রেন্ডকে বলা হচ্ছে গ্লোয়িং ওয়াটার। রান্না ঘরের হলুদ, জল আর কাচের গ্লাস এই তিন উপাদান ব্যবহার করেই এই ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন অনেকে। এক মায়াবী সোনালি আভা যা দেখে মুগ্ধ লক্ষ লক্ষ মানুষ।  

কী করা হচ্ছিল?                       

প্রথমে আপনাকে ফোনের ফ্ল্যাশলাইট চালু করতে হবে। এরপর ফোনটাকে উপুড় করে ফ্ল্যাশলাইটের উপর জলভর্তি একটি কাচের গ্লাস রাখতে হবে। এরপর নিভিয়ে দিতে হবে ঘরের আলো। আলো নিভিয়ে দেওয়ার পর কাচের গ্লাসের ভিতর এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো বা একটা ভাঙা ভিটামিন বি২ ক্যাপসুল ফেলে দিতে হবে। এরপরেই শুরু হবে আলোর ম্যাজিক। হলুদ বা ক্যাপসুল যত জলের সঙ্গে মিশতে শুরু করবে তত মোহময়ী হয়ে উঠবে আপনার ঘরের সৌন্দর্য। এই মুহূর্তেই অন্য মোবাইল থেকে ভিডিও করে রাখুন সেই সময়ের।  

তবে নেটিজেনদের একাংশ এই ট্রেন্ডকে বলছেন বিপজ্জনক। এমনকি অনেকে একে প্রাচীন তান্ত্রিক কৌশলের সঙ্গে তুলনা করে ‘অশুভ শক্তি আহ্বান’-এর অভিযোগও তুলেছেন। জ্যোতিষী অরুণ কুমার ব্যাস একটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে এগিয়ে এসেছেন: এটি কেবল একটি দৃশ্যমান পরীক্ষা নয় - এটি একটি আচার-অনুষ্ঠান যা গুপ্ত ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্যাসের মতে, অন্ধকারে জলে হলুদ ফেলে আলোর নিচে রাখার প্রক্রিয়াটি তান্ত্রিকদের (মায়াবী অনুশীলনকারীদের) দ্বারা ব্যবহৃত একটি কৌশলকে প্রতিফলিত করে যা ভূত বা বিচরণকারী আত্মার মতো আধ্যাত্মিক সত্তাকে আকর্ষণ বা যোগাযোগ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। "যা একটি নির্দোষ প্রবণতা বলে মনে হয় তা অজান্তেই আপনার বাড়িতে অন্ধকার, নেতিবাচক শক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে," তিনি সতর্ক করেন।

কিছু মানুষ দাবি করছেন, এই ধরনের ট্রেন্ড ‘কালা জাদু’-র অনুকরণ এবং এটি নাকি মৃত আত্মাদের ডাকতে ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ বলছেন, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক ও ফলোয়ার বাড়ানোর লোভে জল নষ্ট করা হচ্ছে—এ এক প্রকার অপচয়। 

ডিসক্লেমার : ধর্মীয় বিশ্বাস নিজস্ব। এ ব্যাপারে কোনও মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ ধর্ম সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।