Salary News : হাতে আর কিছু সময়। ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যেই অর্থমন্ত্রকের কাছে জমা পড়বে অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) রিপোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামো সংস্কারের জন্য বৈঠক করছে কমিশন। যেখানে সরকারি কর্মী সংগঠনের তরফে বহু দাবি জমা পড়ছে তাদের কাছে। শোনা যাচ্ছে, বেসিক স্যালারির সঙ্গে DA জুড়ে দেওয়ার দাবি করেছে সংগঠনগুলি। জেনে নিন, এই বিষয় কী রয়েছে TOR-এর নিয়ম। সরকারই বা এই বিষয়ে কী বলছে।
কতজন এই সুবিধা লাভ করবেন ?একবার এই সুবিধা বাস্তবায়িত হলে মোটের ওপর ১ কোটির বেশি লোক এর থেকে উপকৃত হবেন। এর মধ্য়ে রয়েছে ৫০ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ছাড়াও ৬৫ লাখ পেনশনহোল্ডার।
অষ্টম বেতন কমিশনে TOR-এ ডিএ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে ?মনে রাখতে হবে, DA হল বেসিক পের একটি অংশ, যা মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যে কারণে সরকার মুদ্রাস্ফীতি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের রক্ষা করতে বছরে দু-বার এই ডিএ দিয়ে থাকে। সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুসারে DA দেওয়া নির্ভর করে 'অল ইন্ডিয়ায় কনজুমার প্রাইস ইন্ডেক্স' (AICPI) সূচকের ওপর। কোনও কারণে এই সূচক নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে সরকার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন দিয়ে থাকে। সাধারণত, জানুয়ারি ও জুলাই মাসে কার্যকর করা হয় এই ডিএ।
কমিশনের হাতে কী কী রয়েছেঅষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের 'টার্ম অফ রেফারেন্স' বা TOR-এ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশগুলি থেকে কী আশা করতে পারে, তা বলা রয়েছে। গত বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই TOR কমিশনের কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্যানেলের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন কাঠামো, নির্ধারিত পে ম্য়াট্রিক্সের বিষয়ে বলা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা যেমন- ডিএ, ডিয়ারনেস রিলিফ, HRA-র বিষয়টি দেখে। এর সঙ্গে কমিশনের হাতে রয়েছে ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতির বিষয়টিও।
ডিএ মার্জার বা একত্রীকরণ আসলে কী ?একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, এখন সরকারি কর্মীরা তাদের মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে মহার্ঘ ভাতা পান। এই জায়গায় 'ডিএ মার্জার' জুড়ে যাওয়ার অর্থ হল, বর্তমানে কর্মীরা যে হারে ডিএ পাচ্ছেন (যা ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৫৮-৬০ শতাংশে পৌঁছেছে), সেই পুরো টাকাটা মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া। এর ফলে কর্মচারীদের বেসিক পে বা মূল বেতন এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাবে।
কেন এই দাবি তুলছে কর্মী সংগঠনগুলি ?এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF)-এর একটি দাবিপত্র দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে- জীবনযাত্রার খরচ যে হারে বেড়েছে, তাতে বর্তমান ডিএ আর যথেষ্ট নয়। বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA), গ্র্যাচুইটি, পেনশন এবং ভ্রমণ ভাতার মতো বিষয়গুলি সরাসরি মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে। মূল বেতন বাড়লে এই সব কটি ভাতার পরিমাণও আনুপাতিক হারে বাড়বে।
তাদের মতে , বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। সংগঠনের দাবি, ডিএ যখন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে যায়, তখন সেটি মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত প্রতিফলন। তাই এটিকে স্থায়ী বেতনের অংশ করা প্রয়োজন।
অবসরের পর পেনশন ও অন্যান্য পাওনা মূলত শেষ পাওয়া বেসিক পে-র ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। ডিএ মূল বেতনে মিশলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের অংকও অনেকটা বাড়বে।
তবে কর্মী সংগঠনগুলি এই বিষয়ে যতই দাবি করুক না কেন ডিএ মার্জার নিয়ে অন্য কথা বলছে সরকার। এই বিষয়ে ইতিমধ্য়েই মুখ খুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই জাতীয় কোনও প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের বিবেচনাধীন নয়।
আরও পড়ুন : দীপাবলির আগেই পাবেন ২০০০ টাকা, এই দিন চেক করবেন ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট, সরকার করল ঘোষণা
