Salary News: অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ অনুমোদন পেলেই অ্য়াকাউন্টে আসবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বর্ধিত বেতন। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হতে লাগবে আরও সময়। এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে উঠেছে নতুন দাবি। যেখানে, কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যায়কে সামনে রেখে কর্মচারী ভিত্তিক সূচক তৈরি করার দাবি তুলেছে কর্মী সংগঠনগুলি। এর ওপর ভিত্তি করেই বেতন বৃদ্ধি হবে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের (Pension Holders)।
কারা তুলেছে এই দাবিকেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক বড়সড় আপডেট সামনে এসেছে। মহার্ঘ ভাতা (DA) ও মহার্ঘ ত্রাণ (DR) গণনার বর্তমান পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করার জন্য জোরদার দাবি উঠেছে। অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AIDEF)-এর পক্ষ থেকে পে কমিশনের কাছে একটি নতুন সম্পূরক স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে কর্মী মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
বর্তমান ফর্মুলা নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন ?বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের DA ও পেনশনভোগীদের DR নির্ধারণ করা হয় অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স (AICPI-IW)-এর গত ১২ মাসের গড়ের ওপর ভিত্তি করে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাই এই সূচকের মূল লক্ষ্য। তবে AIDEF-এর দাবি, এই বর্তমান ফর্মুলার মধ্যে বেশ কিছু বড় ত্রুটি রয়েছে। সংগঠনের মতে, এই সূচকটি সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বাস্তব জীবনযাত্রার খরচ ও প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না।
মূল আপত্তির জায়গাগুলি কোথায় ?নিম্ন আয়ের কর্মীদের ওপর বেশি চাপ: ২০২২-২৩ সালের সংশোধিত কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) বাস্কেটে খাদ্য ও পানীয়ের ওপর মাত্র ৩৬.৭৫% ভার (Weightage) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে, নিম্ন আয়ের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের আয়ের সিংহভাগ খরচ হয়ে যায় খাদ্য, ওষুধ, শিক্ষা এবং বাড়ি ভাড়ার মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিসে। ফলে সরকারি খাতার চেয়ে তাদের বাস্তব বাজারের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনেক বেশি।
পেনশনভোগীদের ভিন্ন চাহিদা: অবসরের পর প্রবীণ নাগরিকদের মূল খরচ হয় স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম, নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসা এবং নার্সিং কেয়ারের পেছনে। সাধারণ মূল্যস্ফীতির চেয়ে এই সমস্ত জরুরি পরিষেবার খরচ অনেক দ্রুত বাড়ছে, যা বর্তমানের ডিআর (DR) গণনা পদ্ধতি মেটাতে পারছে না।
পে কমিশনের কাছে কী কী বড় দাবি জানানো হয়েছে ?কর্মচারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে এই খামতিগুলি দূর করতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে:১ সরকারি কর্মীদের জন্য আলাদা সূচক (Employee-Specific Index): এমন একটি নতুন জীবনযাত্রার ব্যয় সূচক তৈরি করা হোক, যা সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রকৃত খরচের ধরনকে সঠিকভাবে তুলে ধরবে।২ প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে অগ্রাধিকার: ভবিষ্যৎ বেতন ও পেনশন কাঠামোর সংস্কারে বয়স্কদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিপুল খরচের বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বদল: পরিবর্তনশীল খরচের বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) সংশোধন করা প্রয়োজন, যা চূড়ান্ত বেতন ও পেনশন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেয়।
বেতনে কেমন প্রভাব পড়তে পারে ?যদি অষ্টম বেতন কমিশন AIDEF-এর এই নতুন ফর্মুলার দাবি মেনে নেয়, তবে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা এবং প্রবীণদের পেনশনের টাকার অঙ্কে বড়সড় রদবদল দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মাঝারি স্তরের কর্মী এবং প্রবীণ পেনশনভোগীরা এর ফলে সরাসরি লাভবান হবেন।
আরও পড়ুন : গাড়ি কেনার জন্য আগাম ১০ লাখ ! উৎসবের আগে ১ মাসের বেসিক পে, অষ্টম বেতন কমিশনে কী আপডেট ?
