8th Pay Commission Update : শীঘ্রই পড়তে চলেছে সিলমোহর। অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ মেনে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সেই ক্ষেত্রে কত হতে পারে আপনার ন্যূনতম বেতন ( Salary)? কেন বছরে ৬ শতাংশ বৃদ্ধির কথা ভাবছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ?   

Continues below advertisement

বর্তমানে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি কতটা এগিয়েছে সম্প্রতি অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে বেতন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিভিন্ন আপডেট দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শহরে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনার একটি সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী দিল্লি, পুণে, দেরাদুনের মতো শহরে হচ্ছে বৈঠক।

৫১ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত স্মারকলিপিতে রয়েছে সবকিছুসরকারি কর্মীদের বেতন যেন সঠিক পরিমাণে বাড়ে, সেই দিকে নজর রেখেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)। এই কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গত ১৪ এপ্রিল তাদের ৫১ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এই স্মারকলিপিতে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি ৩% থেকে বাড়িয়ে ৬% করার মতো দাবি রাখা হয়েছে। CNBC TV-18-এর একটি রিপোর্ট বলছে, এই সংগঠন অষ্টম বেতন কমিশনে ৩.৮৩ 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'-এর দাবিও জানিয়েছে। বেতন সংশোধনের ক্ষেত্রে এই মাপকাঠিটিই সাধারণত ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

Continues below advertisement

১৮,০০০ টাকা এখন কি যথেষ্টবেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। তাদের মতে, ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের এই দাবিটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবারের কথা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান উপভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) অনুযায়ী, ১৮,০০০ টাকা (যা সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে নির্ধারিত ন্যূনতম বেতন) এখন আর একটি সাধারণ পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান—সবকিছুর খরচই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিক এই কারণেই বেতন এবং মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছে।

কবে থেকে কার্যকর হতে পারে এই বৃদ্ধি ?গত ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করে সরকার। এরপর কমিশনকে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়। কমিশনের কার্যকাল ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ সম্ভবত কেবল ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী দাবি-দাওয়া রয়েছে কর্মচারী সংগঠনগুলির সব দাবির মধ্যে কর্মী সংগঠনগুলির অন্যতম দাবি HRA (বাড়ি ভাড়া ভাতা)-এর কাঠামো সংশোধন। এই প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, শহরের ধরন অনুযায়ী HRA-এর হার বা স্ল্যাবগুলি বাড়িয়ে ৩০%, ৩৫%, ৪০% করা হোক। শহরগুলিকে X (৪০%), Y (৩৫%) এবং Z (৩০%)—এই তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আসলে কোনও কর্মীর ন্যূনতম HRA (বাড়ি ভাড়া ভাতা) যেন একটি নির্দিষ্ট সীমার নীচে না যায়, নিম্নস্তরের কর্মীরাও যেন উপযুক্ত বাসস্থানের সুবিধা পেতে পারেন, সেই কারণেই এই প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়াও, ইউনিয়নগুলি ‘পুরানো পেনশন প্রকল্প’ (OPS) পুনর্বহাল ও পেনশনের পরিমাণ হিসেবে কর্মীর সর্বশেষ তোলা বেতনের ৬৭ শতাংশ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। বর্তমানে এই সীমা ৫০ শতাংশে নির্ধারিত রয়েছে।