AC Electricity Bill : গ্রীষ্মের প্রবল (Summer Cooling Tips) দাবদাহে প্রতিবার এই অবস্থা হয় আমাদের। গরম থেকে বাঁচতে এসির (AC Using Tips) দ্বারস্থ হতে হয় দেশবাসীকে। কিন্তু এতে গরম কমলেও এসির জন্য বাড়তে থাকে অত্যধিক বিদ্যুতের বিল। এবার থেকে সারা রাত এসি চালালেও সেরকম বিল আসবে না আপনার। শুধু মানতে হবে এই ৭ পরমার্শ (Air Conditioner Using Guide)।  

Continues below advertisement

এই বিষয়গুলি মাথায় আছে তো ?একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, অনেকের ধারণা- এসি ১৬ ডিগ্রিতে চালালেই হয়তো ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। কিছু সহজ অভ্যাস এবং স্মার্ট ট্রিকস মেনে চললেই বিদ্যুৎ বিল একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। জেনে নিন এসি চালানোর এমন ৭টি সহজ উপায়, যা আপনার পকেট বাঁচাবে আবার ঘরকেও রাখবে আরামদায়ক।

১ দরজা-জানলা ভালো করে বন্ধ রাখুনএই ভুল আপনিও করেন। অনেকেই এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানলা পুরোপুরি বন্ধ করতে ভুলে যান। সামান্য ফাঁকফোকর দিয়েও ঘরের ঠান্ডা হাওয়া বাইরে বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢোকে। এর ফলে ঘর ঠান্ডা করতে এসি-র ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে। তাই এসি চালু করার আগে ঘরটি যাতে পুরোপুরি এয়ার-টাইট বা সিলড থাকে, সেদিকে নজর রাখুন।

Continues below advertisement

২ সঠিক তাপমাত্রায় এসি চালানএসি চালানোর সঠিক তাপমাত্রা সম্পর্কে জানি না আমরা। ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে এসি চালালেই ঘর তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ব্যুরো অব এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE)-এর মতে, মানুষের শরীরের জন্য ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে আরামদায়ক এবং পরিবেশবান্ধব। এই তাপমাত্রায় এসির কম্প্রেসারের ওপর চাপ সবচেয়ে কম পড়ে, ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় প্রায় ২৩% পর্যন্ত!

৩ এসির সঙ্গে সিলিং ফ্যানও চালানঅনেকে মনে করেন এসি চললে ফ্যান চালানোর দরকার নেই। কিন্তু এসির সাথে হালকা স্পিডে সিলিং ফ্যান চালালে ঘরের ঠান্ডা হাওয়া খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘর তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয় এবং এসি-কে বারবার ফুল পাওয়ারে চলতে হয় না।

৪ নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুনগরমের সময় ফিল্টার পরিষ্কার করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ধুলোবালি ও দূষণের কারণে এসির ফিল্টার খুব দ্রুত জ্যাম হয়ে যায়। ফিল্টার নোংরা থাকলে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঘর ঠান্ডা করতে এসি বেশি বিদ্যুৎ টানে। প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পর এসির ফিল্টারটি খুলে জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এতে এসির কার্যক্ষমতা বজায় থাকবে।

প্রয়োজনীয় টিপস: ঘর যদি দ্রুত ঠান্ডা না হয়, তবে প্রথমেই টেকনিশিয়ান না ডেকে একবার এসির ফিল্টারটি নিজে পরীক্ষা করে পরিষ্কার করে নিন। বেশিরভাগ সময় এতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

৫ সময়মতো এসির সার্ভিসিং করানগ্রীষ্মকাল পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই এসির সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না হলে এসির কুলিং কয়েলে ধুলো জমে যায়, পাইপ ব্লক হতে পারে বা গ্যাস কমে যেতে পারে। কোনো অনুমোদিত বা নির্ভরযোগ্য টেকনিশিয়ানকে দিয়ে বছরে অন্তত একবার এসি সার্ভিসিং করালে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৬ রাতে 'স্লিপ টাইমার' ব্যবহার করুনআজকাল প্রায় সব এসিতেই 'Sleep Mode' বা টাইমার ফিচার থাকে। রাতে ঘুমানোর সময় ১ বা ২ ঘণ্টার টাইমার সেট করে দিন। এতে আপনার ঘুমের প্রথম ভাগে ঘর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি নিজে থেকেই বন্ধ বা তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। মাঝরাতে ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা হবে না এবং সারারাত অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচও বাঁচবে।

৭ রিমোটের পাশাপাশি মেইন সুইচ বন্ধ করুনএসির কাজ শেষে আমরা অনেকেই শুধু রিমোটের বোতাম টিপে রেখে দিই। কিন্তু মনে রাখবেন, রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও এসি আসলে 'স্ট্যান্ডবাই' (Standby) মোডে থাকে, যা অনবরত কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই এসি ব্যবহার না করলে দেওয়ালের মেইন সুইচটি অবশ্যই বন্ধ করুন।

আরও পড়ুন : এসি চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না ? এই ৫ লক্ষণ বলে দেবে এসির গ্যাস কিনা