Consumer Rights :  হোটেল, রেস্তোরাঁয় (Hotel Service Charge) খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই জানেন না এই বিষয়ে। যার ফলে বাড়তি খরচের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। হোটেল কি জোর করে আপনার থেকে সার্ভিস চার্জ নিতে পারে।  

Continues below advertisement

অনেকেই করেন এই ভুলবাইরে খাওয়া-দাওয়া ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। কিন্তু গ্রাহকদের উপর প্রায়শই নীরবে অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো হয়। খাবারের দাম এবং জিএসটি-র পাশাপাশি রেস্তোরাঁর বিলে প্রায়শই একটি সার্ভিস চার্জ যোগ করা থাকে। অনেক গ্রাহক এটিকে বাধ্যতামূলক ভেবে কোনও প্রশ্ন ছাড়াই তা দিয়ে দেন। যদি আপনার সঙ্গেও এমনটা হয়ে থাকে বা হচ্ছে, তবে সতর্ক হন।

কেন্দ্রীয় উপভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (CCPA) এই ধরনের রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলো কি জোর করে আপনার কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ নিতে পারে। এই প্রসঙ্গে আপনার অধিকারই বা কী।

Continues below advertisement

২৭টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে CCPA-এর পদক্ষেপCCPA দেশজুড়ে ২৭টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এরা গ্রাহকদের কাছ থেকে জোর করে সার্ভিস চার্জ আদায় করছিল। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের সম্মতি ছাড়াই বিলে সার্ভিস চার্জ যোগ করছিল। কর্তৃপক্ষ এই রেস্তোরাঁগুলোর উপর ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করেছে, যা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল। এছাড়াও, সার্ভিস চার্জ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আইন কী বলছে ?উপভোক্তা সুরক্ষা আইন ২০১৯ অনুসারে, বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ একটি অন্যায্য বাণিজ্য প্রথা হিসেবে বিবেচিত হয়। CCPA এই বিষয়ে ৪ জুলাই, ২০২২-এ স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল, যা ২৮ মার্চ, ২০২৫-এ দিল্লি হাইকোর্ট দ্বারা বহাল রাখা হয়। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে জোর করে সার্ভিস চার্জ নিতে পারে না এবং সবাইকে CCPA-এর নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।

CCPA-এর নির্দেশিকায় কী বলা আছে ?

CCPA-এর নির্দেশিকা অনুসারে, কোনও হোটেল বা রেস্তোরাঁ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলে সার্ভিস চার্জ যোগ করতে পারবে না।অন্য কোনও নামে সার্ভিস চার্জ আদায় করাও নিষিদ্ধ।এটি সম্পূর্ণ গ্রাহকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে এবং তাদের উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।সার্ভিস চার্জ দিতে অস্বীকার করার জন্য কোনো গ্রাহককে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।জোর করে সার্ভিস চার্জ আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রাহক ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইন ১৯৩০-এ অভিযোগ করতে পারেন।

তদন্তে কোন কোন নাম উঠে এসেছে ?তদন্তে পাটনার ক্যাফে ব্লু বটল এবং মুম্বাইয়ের চায়না গেট রেস্তোরাঁর মতো ঘটনাও উঠে এসেছে। এই রেস্তরোঁগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস চার্জ যোগ করছিল। ক্যাফে ব্লু বটলকে সার্ভিস চার্জ ফেরত দিতে, এই নিয়ম বন্ধ করতে এবং ৩০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চায়না গেট রেস্তোরাঁকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাদের বিলিং সফটওয়্যার থেকে স্বয়ংক্রিয় সার্ভিস চার্জ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।