Fixed Deposit Tips: শেয়ার বাজারের অস্থিরতা ছেড়ে অনেকেই এখন ফিক্সড ডিপোজিটের দিকে ঝুঁকছেন। মূলত, নিশ্চিত রিটার্নের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এফডি। তবে বেশি সুদের আশায় FD করার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি, অন্যথায় বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন আপনি।
এফডি করার সময় এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেছেন তো ?মনে রাখবেন , ব্যাঙ্কে FD করার সময় কেবল বেশি সুদের হার দেখাটাই যথেষ্ট নয়। এর বাইরেও আপনার ব্যাঙ্কের সুরক্ষা, ফিক্সড ডিপোজিটের সময়কাল, মেয়াদ পূর্ণের আগেই টাকা তোলা ও আয়করের বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে। তাই এফডি করার আগে এই ৫ বিষয় অবশ্যই জেনে নিন।
১ কেবল ইন্টারেস্ট রেটের দিকে তাকাবেন নাকোনও ব্যাঙ্ক ৮ শতাংশ ইন্টারেস্ট রেট দিচ্ছে দেখে, ৬.৫ শতাংশের দিকে যাবেন না, এরকমটা করবেন না। এই ক্ষেত্রে যে ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ করবেন, তার সিকিউরিটি বা আর্থিক স্থিতাবস্থা দেখে নিন। বাজারে তার সুনাম অবশ্যই দেখতে হবে। সঙ্গে কতদিনের মেয়াদে আপনি সেই সুদ পাচ্ছেন, তা বুঝে নেওয়া অবশ্য় কর্তব্যের মধ্য়ে পড়ে। কারণ অনেকে বেশি সময় টাকা রাখলেই তবে ৮ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দেয়। ব্যাঙ্ক থেকে মেয়াদ পূরণের আগে টাকা তোলার কী নিয়ম রয়েছে ,তা বুঝে নিন আগে।
২ জরিমানার নিয়ম কোন ক্ষেত্রে কী ?আপনি যদি মেয়াদ পূরণের আগে টাকা তুলে নেন, সেই ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক আপনাকে কত জরিমানা করবে, তা জানাটা দরকার। অনেক ব্যাঙ্ক এই ক্ষেত্রে জরিমানা বাবদ টাকা কেটে নেয়। কিছু ব্যাঙ্ক আবার সুদ থেকে টাকা কাটে। আপনার যদি ১-২ বছরের মধ্য়ে টাকার প্রয়োজন হতে পারে অনুভব করেন, তবে একটি ব্যাঙ্কে এফডি না করে দুটি ব্যাঙ্কে কম সময়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করুন।
৩ ইন্টারেস্টের ওপর কত কর আরোপ হবেঅনেকেই বেশি সুদি দেখে ব্যাঙ্কের এফডিতে বিনিয়োগ করে দেন। ধরুন আপনার ব্যাঙ্ক ৭ শতাংশ রিটার্ন দিচ্ছে। তার মানে এই নয় আপনি পুরো সাত শতাংশই পাবেন আপনার আয়ের ওপর ভিত্তি করে এর ওপর কর আরোপ হতে পারে। কোনও কোনও ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্টের ওপর TDS কাটে। তাই পোস্ট ট্যাক্স রিটার্ন কত হতে পারে ধরে নিয়ে ফিক্সড ডিপোজিট করুন।
৪ ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে কী করবেন ? অনেক ক্ষেত্রে বেশি সুদ দেখে দুর্বল ব্যাঙ্কে FD করলে ভুগতে হতে পারে আপনাকে। ডিপোজিট ইনস্যুওরেন্স অ্য়ান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন (DICGC)-এর নিয়ম অনুসারে, আপনি কোনও ব্যাঙ্কে যত বেশি FD করুন না কেন, ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে আপনি ডিপোজিট ও সুদ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকাই পাবেন। তাই কোনও বিনিয়োগকারী ১০ লাখ টাকা ইনভেস্ট করলেও ৫ লাখ হাতে পাবেন। কারণ এই সংখ্যাটাই বিমা হিসেবে দেওয়ার নিয়ম করেছে DICGC । এই ক্ষেত্রে ১০ লাখ রাখতে হবে দুটি ব্যাঙ্কে টাকা রাখুন। আর বিনিয়োগের আগে ব্যাঙ্কের ঝুঁকির রেটিং দেখে নিন।
৫ আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন:এফডি (FD)-তে বিনিয়োগ করার আগে ভেবে দেখুন আপনার টাকার প্রয়োজন কখন হতে পারে। ধরুন, আপনার কাছে ৫ লক্ষ টাকা আছে ও আপনি তা ৫ বছরের মেয়াদে একটি এফডিতে বিনিয়োগ করলেন। এখন যদি এক বছর পরেই বাড়ি কেনা বা পড়াশোনার মতো কোনও প্রয়োজনে আপনার সেই টাকার দরকার পড়ে এবং আপনি এফডিটি ভেঙে ফেলেন, তবে আপনি পুরো সুদ পাবেন না। তাই, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা অর্থ (ইমার্জেন্সি ফান্ড) এভাবে আটকে রাখা উচিত নয়।
