কলকাতা: বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রায় প্রত্যেকের কাছেই একটি নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিন্তু আপনার অজান্তেই কি আপনার অ্যাকাউন্টটি কোনো অপরাধের মাধ্যম হয়ে উঠছে? সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধীরা সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ওপর কড়া নজর রাখছে এবং সেগুলিকে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করছে। এই ধরনের অ্যাকাউন্টকে বলা হয় 'মিউল অ্যাকাউন্ট' (Mule Account)।

Continues below advertisement

সম্প্রতি সাধারণ মানুষকে এই বড়সড় বিপদ থেকে বাঁচাতে এবং সতর্ক করতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিছু জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। 

'মিউল অ্যাকাউন্ট' কী এবং কীভাবে কাজ করে?সহজ কথায়, যখন কোনো সাইবার অপরাধী বা জালিয়াতি চক্র অন্য কোনো সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গোপনে অবৈধ টাকা লেনদেন করে, তখন সেই অ্যাকাউন্টটিকে 'মিউল অ্যাকাউন্ট' বলা হয়। অনেক সময় অ্যাকাউন্টের আসল মালিক বুঝতেই পারেন না যে তাঁর অ্যাকাউন্টটি কোনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Continues below advertisement

সাধারণত কম শিক্ষিত বা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের টাকার লোভ দেখিয়ে, তাঁদের নথিপত্র (যেমন আধার বা প্যান কার্ড) হাতিয়ে এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এবং পরে সেগুলির অপব্যবহার করা হয়।

মিউল অ্যাকাউন্ট মূলত তিন প্রকারের হয়:আনউইটিং মিউল (Unwitting Mule - অজান্তে): যখন কোনো ব্যক্তি সম্পূর্ণ অজান্তে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এই জালিয়াতির শিকার হন। তিনি ভাবতেও পারেন না যে তাঁর অ্যাকাউন্টটি অপরাধীরা ব্যবহার করছে।

উইটিং মিউল (Witting Mule - জেনেবুঝে): যখন কোনো ব্যক্তি সামান্য কিছু কমিশনের লোভে বা জেনেশুনে কোনো অবৈধ কাজে নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিয়ে অপরাধীদের সাহায্য করেন।

কমপ্লিসিট মিউল (Complicit Mule - অপরাধের অংশীদার): যখন কোনো ব্যক্তি সরাসরি ওই অপরাধ চক্র বা সাইবার ক্রাইম গ্যাং-এর সাথে হাত মিলিয়ে জালিয়াতির ব্যবসা চালান।

RBI-এর কড়া হুঁশিয়ারি:রিজার্ভ ব্যাংক সাফ জানিয়েছে, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যদি কোনো অবৈধ টাকা লেনদেন বা তোলা হয়, তবে আপনিও সেই অপরাধের অংশীদার হিসেবে গণ্য হতে পারেন। সতর্ক না থাকলে জালিয়াতির দায়ে সরাসরি জেল খাটতে হতে পারে।

সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন আর কী করবেন না? RBI-এর সেফটি টিপস:সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে নিজের কষ্টার্জিত টাকা এবং সম্মান বাঁচাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নিম্নলিখিত পরামর্শগুলি মেনে চলতে বলেছে:

১. টাকার লোভে নথিপত্র দেবেন না: সামান্য কিছু টাকা উপার্জনের লোভে কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে নিজের আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ব্যাঙ্কের নথিপত্র দেবেন না।২. অপরিচিতের কথায় লেনদেন নয়: কোনো অজানা বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা অন্য কোথাও ট্রান্সফার করবেন না।৩. লোভনীয় মেসেজ থেকে দূরে থাকুন: "ঘরে বসেই সহজে লাখ লাখ টাকা আয় করুন" — এই ধরণের কোনো মেসেজ বা লিঙ্কে বিশ্বাস করবেন না।৪. গোপন তথ্য শেয়ার নিষিদ্ধ: আপনার ব্যাঙ্কের ডিটেইলস, পাসওয়ার্ড, কিংবা মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) ভুলেও কারও সাথে শেয়ার করবেন না। ব্যাঙ্ক কখনো এই তথ্য চায় না।৫. অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সে নজর রাখুন: নিয়মিত আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও স্টেটমেন্ট চেক করুন। যদি দেখেন অ্যাকাউন্টে হঠাৎ কোনো অজানা উৎস থেকে টাকা জমা হয়েছে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে সাইবার হেল্পলাইনে (১৯৩০ নম্বরে) বা স্থানীয় পুলিশে জানান।