Public Provident Fund : সরকারি এই ঝুঁকিহীন প্রকল্পে আপনিও বিনিয়োগ (Investment) করে অবসরের বিপুল রিটার্ন পেতে পারেন। এই স্কিমে মাসে অবসরকালে ৬১,০০০ টাকা পেনশন পেতে পারেন বিনিয়োগকারী। সামান্য কিছু উপায় অবলম্বন করলেই এই টাকা মাসে পাবেন ইনভেস্টাররা।
নিশ্চিত রিটার্ন, সরকারি গ্যারান্টিশেয়ার বাজারের চরম অস্থিরতায় ভরসা না রাখতে পারলে ভারত সরকারের পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PPF (Public Provident Fund) হতে পারে সবচেয়ে ভরসাযোগ্য স্কিম। একযোগে এখানে কর ছাড়, নিশ্চিত রিটার্ন, সরকারি গ্যারান্টির কারণে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবার প্রথম পছন্দ এই পিপিএফ।
এখন পিপিএফে আপনি কত সুদের হার পাবেন ?সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল থেকে জুন) ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে পিপিএফ-এ বার্ষিক ৭.১% হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে।
PPF অ্যাকাউন্টের কিছু জরুরি নিয়ম:বিনিয়োগের সীমা: এক অর্থবর্ষে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়।
লক-ইন পিরিয়ড: এই স্কিমের মেয়াদ ১৫ বছর।
অ্যাকাউন্ট এক্সটেনশন: ১৫ বছর পর আপনি চাইলে ৫ বছরের ব্লকে যতবার খুশি এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ বাড়াতে পারেন। এর জন্য মেয়াদ শেষের এক বছরের মধ্যে 'ফর্ম এইচ' (Form H) জমা দিতে হয়।
মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা: মেয়াদ বাড়ানোর পর আপনি চাইলে নতুন করে টাকা জমা দিতেও পারেন, আবার টাকা জমা না দিয়ে শুধু জমানো টাকা ফান্ডের রেখে সুদও কামাতে পারেন।
১ কোটি টাকার তহবিল কীভাবে তৈরি করবেন ?পিপিএফ-এর মাধ্যমে কোটিপতি হতে গেলে আপনাকে একটানা ২৫ বছর সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ বছরে ১.৫ লাখ টাকা (মাসে ১২,৫০০ টাকা) বিনিয়োগ করতে হবে। বর্তমান ৭.১% সুদের হারে হিসাবটি ঠিক এইরকম দাঁড়াবে:
১৫ বছর পর (ম্যাচিউরিটি): আপনার মোট তহবিল হবে প্রায় ৪০.৬৮ লাখ টাকা।
২০ বছর পর (প্রথম ৫ বছরের এক্সটেনশন): তহবিল বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৬.৫৮ লাখ টাকা।
২৫ বছর পর (দ্বিতীয় ৫ বছরের এক্সটেনশন): আপনার জমানো টাকা সুদে-আসলে হয়ে যাবে ১.০৩ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, মাত্র ২৫ বছর নিয়ম মেনে টাকা জমালেই আপনি ১ কোটির বেশি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন।
এবার বুঝুন মাসে ৬১,০০০ টাকা পেনশনের ম্যাজিক ট্রিক্সধরে নেওয়া যাক, ২৫ বছর পর আপনার অ্যাকাউন্টে ১.০৩ কোটি টাকা জমে গেছে। এবার আপনি আর নতুন করে কোনও টাকা জমা দেবেন না, কিন্তু অ্যাকাউন্টটি বন্ধও করবেন না। শুধু জমানো টাকাটা পিপিএফ অ্যাকাউন্তেই রেখে দেবেন।
যদি সুদের হার ৭.১% থাকে, তবে হিসাবটি এরকম হবেমোট জমানো টাকা: ১.০৩ কোটি টাকা।
বছরে মোট সুদ: ১.০৩ কোটি টাকার ৭.১% = ৭.৩২ লাখ টাকা (বছরে)।
মাসিক আয় বা পেনশন: ৭.৩২ লাখ টাকা ÷ ১২ মাস = ৬০,৯৮৯ টাকা (প্রায় ৬১,০০০ টাকা)।
জরুরি নোট: পিপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, অর্থবর্ষে কেবল একবারই টাকা তোলা যায়। তাই আপনি প্রতি মাসে টাকা তুলতে পারবেন না। আপনাকে বছরের শেষে এককালীন প্রাপ্ত সুদের টাকা (৭.৩২ লাখ টাকা) তুলে নিতে হবে ও নিজের প্রয়োজনমতো প্রতি মাসে খরচ করার জন্য ভাগ করে নিতে হবে।
এখানে সবচেয়ে বড় সুবিধা কী পাবেন ?এই কৌশলে প্রতি বছর ৭.৩২ লাখ টাকা তোলার পরেও আপনার মূল ১.০৩ কোটি টাকার তহবিল কিন্তু পিপিএফ অ্যাকাউন্টেই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। ফলে আপনার অবসরের পর জীবন কাটবে একদম নিশ্চিন্তে।
আরও পড়ুন : PPF-এ বিনিয়োগ করে মাসে পেতে পারেন ৫০,০০০ টাকা, ১ কোটি টাকা হবে তহবিল, সূত্রটা কী ?
