Public Provident Fund : অনেক সময় জীবনে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় আমাদের। জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে ঋণের প্রয়োজন পড়তে এদিক-ওদিক হাতরাতে হয় আমাদের। যে কারণে চড়া সুদ হওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গা থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হই আমরা। কিছু ক্ষেত্রে পার্সোনাল লোন (Personal Loan) বা ক্রেডিট কার্ডের (Credit Card) বেশি সুদের ফাঁদে পা দিয়ে সমস্যা বাড়ে গ্রাহকের। অনেকেই জানেন না, আপনার পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)থেকেই পেতে পারেন কম সুদে লোন (PPF Loan)।   

Continues below advertisement

অনেকেই জানেন না এই বিষয়ে। মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে হাত না দিয়েই আপনি আপনার পিপিএফ ব্যালেন্সের জন্য অত্যন্ত কম সুদে জরুরি ঋণ বা লোন পেতে পারেন। জেনে নিন, পিপিএফ-এর এই বিশেষ সুবিধা, নিয়ম ও যোগ্যতা সম্পর্কে।

পিপিএফ (PPF) লোন আসলে কী ?পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ লোন হল এমন একটি সুবিধা যা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের পুরো অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করে বা টাকা না তুলে, জমানো টাকার ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ নেওয়ার অনুমতি দেয়। তবে এই সুবিধাটি সারাজীবন পাওয়া যায় না। অ্যাকাউন্ট খোলার পর তৃতীয় আর্থিক বছর থেকে শুরু করে ষষ্ঠ আর্থিক বছরের শেষ পর্যন্ত এই লোন নেওয়া সম্ভব। বর্তমান ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে পিপিএফ-এ সুদের হার রয়েছে ৭.১%।

Continues below advertisement

পিপিএফ লোনের প্রধান সুবিধাগুলো কী কী ?স্বল্প সুদের হার: সাধারণ পার্সোনাল লোনের তুলনায় পিপিএফ লোনে সুদের হার অনেক কম হয়।

কোনও বন্ধক বা কোল্যাটারাল লাগে না: এই ঋণের জন্য আপনাকে কোনো সম্পত্তি বা সোনা বন্ধক রাখতে হবে না।

সঞ্চয়ে বাধা পড়ে না: লোন নিলেও আপনার বাকি পিপিএফ ব্যালেন্সের ওপর সুদ পাওয়া বজায় থাকে এবং আপনার দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় অক্ষুণ্ণ থাকে।

ট্যাক্স-সাশ্রয়ী: এই পুরো প্রক্রিয়ার কর কাঠামো অত্যন্ত সুবিধাজনক।

সতর্কতা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই শর্ত ও সুদের হার পরিবর্তনশীল। আবেদনের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ব্যাংকে খোঁজ নেওয়া শ্রেয়।

কীভাবে আবেদন করবেন ?পিপিএফ লোন নেওয়া অত্যন্ত সহজ। আপনার যে ব্যাংক বা পোস্ট অফিসে পিপিএফ অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে 'Form D' পূরণ করতে হবে। এর সাথে আপনার পিপিএফ পাসবুক এবং প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি (KYC) নথি জমা দিতে হবে। আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স যাচাই করে ব্যাংক বা পোস্ট অফিস এই লোন মঞ্জুর করবে।

বিষয়নিয়ম ও শর্তাবলী
লোনের পরিমাণলোন আবেদনের আগের ২ বছর শেষে যে ব্যালেন্স ছিল, তার সর্বোচ্চ ২৫%
সময়মতো পরিশোধে সুদের হারবর্তমান পিপিএফ সুদের হারের চেয়ে ১% বেশি (যেমন: পিপিএফ রেট ৭.১% হলে, লোনের সুদ হবে ৮.১%)। এটি ৩৬ মাসের মধ্যে শোধ করতে হবে।
দেরিতে পরিশোধে সুদের হার৩৬ মাসের মধ্যে লোন শোধ না করলে, পিপিএফ রেটের চেয়ে ৬% বেশি সুদ দিতে হবে (অর্থাৎ ৭.১% + ৬% = ১৩.১%)।
পরিশোধের সময়সীমাসর্বোচ্চ ৩৬ মাস
দ্বিতীয়বার লোনপ্রথম লোনটি সম্পূর্ণ শোধ করার পরেই কেবল দ্বিতীয় লোনের জন্য আবেদন করা যাবে।
লোন নেওয়ার সময়সীমাঅ্যাকাউন্ট চালুর পর ৩ নম্বর থেকে ৬ নম্বর আর্থিক বছরের মধ্যে

পিপিএফ থেকে লোন নেওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ ?জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে পিপিএফ লোন একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সস্তা বিকল্প। তবে মনে রাখবেন, এটি একটি বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। ৩৬ মাসের মধ্যে লোন শোধ করতে পারলে আপনার ওপর সুদের বোঝা প্রায় থাকবেই না। তবে যেকোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করা এবং প্রয়োজনে কোনও স্বীকৃত আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আরও পড়ুন : অষ্টম বেতন কমিশনে কার কত স্যালারি বাড়বে ? রেলওয়ে দিল ৪০০ শতাংশের ফর্মুলা