Baba Ramdev : ভারেতর আয়ুর্বেদকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে পতঞ্জলি। ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের কোণায়-কোণায়। কীভাবে হচ্ছে এই অসাধ্য সাধন ? এই নিয়ে কী বলছে কোম্পানি।
বিশ্বের ২০টি দেশে এখন রয়েছে পতঞ্জলি
বর্তমানে ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা আয়ুর্বেদ, বিশ্বের প্রতিটি কোণায় স্বীকৃতি পাচ্ছে। পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের মতে, আয়ুর্বেদ কেবল ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাকৃতিক নিরাময়ের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেনি, বরং প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিকে নতুন বিশ্ব উচ্চতায় উন্নীত করেছে। কোম্পানির মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে পতঞ্জলি ২০টিরও বেশি দেশে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন যেখানে এর পণ্য বিক্রির পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পতঞ্জলির মতে, এই সম্প্রসারণ কেবল অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিকও, যা আয়ুর্বেদকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য বিপ্লব হিসেবে স্থান দিয়েছে।
এই নিয়ে কী বলছে কোম্পানি
পতঞ্জলির মতে, “আজ কোম্পানির হাজার হাজার খাবার, ওষধ, শরীরের যত্নের পণ্য় ও ভেষজ পণ্য রয়েছে, যা সম্পূর্ণ জৈব ও সাশ্রয়ী। বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ কৌশলে ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স ও অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, পতঞ্জলির পণ্যগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো দেশে রফতানি করা হচ্ছে, যেখানে কেবল ভারতীয় প্রবাসীরা নয়, স্থানীয় গ্রাহকরাও সেগুলি গ্রহণ করছেন। ২০২৫ সালে কোম্পানি আরও ১২টি দেশে FMCG রফতানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যা আয়ুর্বেদিক বাজারে নতুন গতি আনবে।”
আয়ুর্বেদকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির জন্য আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে : আচার্য বালকৃষ্ণ
কোম্পানি বলছে, “সম্প্রতি, আয়ুর্বেদ দিবসে পতঞ্জলি রিসার্চ ফাউন্ডেশন ব্রাজিলের শ্রী বজেরা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় ও ব্রাজিলিয়ান ভেষজ উদ্ভিদের উপর যৌথ গবেষণা পরিচালনা করবে। যার মধ্যে জলবায়ু অনুসারে ওষুধের গুণাবলী বোঝা ও ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হবে।” এই বিষয়ে আচার্য বালকৃষ্ণ বলেন, “এর মাধ্যমে আয়ুর্বেদ আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে জুড়ে যাবে এবং আয়ুর্বেদকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করবে।”
পতঞ্জলি জানিয়েছে, একইভাবে নেপালে একটি ভেষজ কারখানা স্থাপন করে, কোম্পানি দক্ষিণ এশিয়ায় তার শিকড় মজবুত করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল হার্বাল এনসাইক্লোপিডিয়া’ নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এখন যা বিশ্বজুড়ে গবেষকদের জন্য আয়ুর্বেদের ভান্ডার হিসেবে কাজ করছে। পতঞ্জলির এই সম্প্রসারণ কেবল একটি ব্যবসা নয়, বরং একটি মিশন হিসেবে দেখছে।
পতঞ্জলি ভারতে ১০,০০০ ওয়েলনেস হাব খোলার পরিকল্পনা করেছে
কোম্পানি ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে ১০,০০০ ওয়েলনেস হাব খোলার পরিকল্পনা করেছে, যা বিশ্বব্যাপী ওয়েলনেস শিল্পকে শক্তিশালী করবে। নাগপুরে ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে খাদ্য ও ভেষজ পার্কের উদ্বোধন কৃষকদের জৈব চাষ গ্রহণে উৎসাহিত করছে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও রফতানি বাড়বে। ২০২৫ সালে ১৬.৫১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশ্বব্যাপী আয়ুর্বেদের বাজার ২০৩৫ সালের মধ্যে ৭৭.৪২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যোগব্যায়াম ও আয়ুর্বেদের মাধ্যমে পতঞ্জলি এই সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।”