Baba Ramdev : বদলে যাচ্ছে ভারতের স্বাস্থ্য় পরিষেবার চিন্তাধারা। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি। যাতে সবথেকে বেশি অবদান রাখছে দেশের বড় আয়ুর্বেদিক কোম্পানিগুলি। এদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় আয়ুর্বেদিক জায়ান্ট - পতঞ্জলি, হিমালয় ও সান হার্বালস স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এই সংস্থাগুলির প্রচেষ্টা কেবল দেশে সামগ্রিক সুস্থতার পরিবেশ স্বাভাবিক করছে না, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য মানচিত্রে ভারতকে একটি ক্রমবর্ধমান শক্তি হিসেবেও তুলে ধরছে।

কীসে বিনিয়োগ করছে কোম্পানিগুলি

বর্তমানে এই সংস্থাগুলি আয়ুর্বেদকে প্রমাণ-ভিত্তিক ওষুধ তৈরিতে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায়ও বিনিয়োগ করছে। তাদের মনোযোগ ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ, কিডনি রোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার জন্য প্রাকৃতিক চিকিৎসার বিকাশের দিকে পরিচালিত করেছে।

পতঞ্জলি ৭০ টিরও বেশি দেশে বিস্তার লাভ করছেপতঞ্জলি, তার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ৫০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানীর একটি দল নিয়ে কাজ করছে। সংস্থার আয়ুর্বেদিক ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পতঞ্জলির কিডনি স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কিত রেনোগ্রিট ২০২৪ সালে সায়েন্টিফিক রিপোর্টসের সেরা ১০০টি গবেষণার মধ্যে স্থান পেয়েছে। যা কিডনি চিকিৎসায় প্রাকৃতিক সমাধান হিসাবে এর সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। আজ পর্যন্ত পতঞ্জলির ৪,৭০০ টিরও বেশি খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এই নেটওয়ার্ক বিশ্বের ৭০ টিরও বেশি দেশে আয়ুর্বেদিক পণ্য সরবরাহের জন্য কাজ করছে।

কী কাজ করেছে ডাবর

ইতিমধ্যে, ডাবর ২০২০ সালে জার্নাল অফ আয়ুর্বেদ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের মাধ্যমে তার প্রধান চ্যবনপ্রাশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য সবার সামনে তুলে ধরেছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা নিশ্চিত করেছে। ডাবরের বিস্তৃত বিশ্বব্যাপী সরবারহের নেটওয়ার্ক বাজারে আয়ুর্বেদিক পণ্য়কে আরও জনপ্রিয় করতে সাহায্য় করছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে ঐতিহ্যের মিশ্রণ১৯৫৫ সালে চালু হওয়া হিমালয়ের Liv.52, একটি লিভার সাপোর্ট ফর্মুলা, বিশ্বব্যাপী সেরা বিক্রেতা হিসাবে নিজেদের তুলে ধরেছে। কোম্পানি গবেষণায় ব্যাপক বিনিয়োগ করে চলেছে। বর্তমানে ২০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী ভেষজ ওষুধে থাকা অ্যাক্টিভ কম্পাউন্ডের বিশ্লেষণ করছে। এই আয়ুর্বেদিক লিডাররা তাদের পণ্য়ের প্রসার বাড়াতে প্রযুক্তি - ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম, টেলিমেডিসিন ও চিকিৎসা পর্যটনের মতো বসুবিধা দিচ্ছে। 

বেসরকারি খাতের এই উদ্ভাবনগুলিকে সাপোর্ট করছে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ মন্ত্রক। এই সংস্তাগুলিকে নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে মন্ত্রক। যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ভিসা চালু, ৪৩,০০০ এরও বেশি গবেষণার অনুমোদন। ফলস্বরূপ, ভারত প্রমাণ-ভিত্তিক আয়ুর্বেদের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী লিডার হিসেবে উঠে আসছে ।

স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করে তোলার মাধ্যমে এই উদ্ভাবনগুলি ভারতকে সামগ্রিক সুস্থতার কেন্দ্রে রূপান্তরিত করছে। এটি এমন একটি পরিবর্তন ,যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য পরিষেবার ভবিষ্যৎকে নতুন করে রূপ দিতে পারে।