BSNL Problem : বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাজারে এভার সমস্যা বাড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল (BSNL)-এর। বর্তমানে এই কল ড্রপ ও নেটওয়ার্ক নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিশেষ করে কেরলের মতো শক্তিশালী সার্কেলগুলোতেও নেটওয়ার্কের বেহাল দশা সামনে আসছে। গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগ— ফোনে টাওয়ার থাকলেও কথা বলা যাচ্ছে না, অথবা মাঝপথেই ভয়েস কেটে যাচ্ছে (Voice cut)।

Continues below advertisement

ঠিক কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন গ্রাহকরা ?সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএসএনএল ব্যবহারকারীরা মূলত তিনটি বড় সমস্যার কথা জানিয়েছেন:

ডেড নম্বার মেসেজ: ফোন চালু থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় কল করলে শোনা যাচ্ছে "ডায়াল করা নাম্বারটি বর্তমানে ডেড বা অস্তিত্বহীন"।

Continues below advertisement

রিং হচ্ছে কিন্তু কল যাচ্ছে না: কলারের ফোনে রিংটোন শোনা গেলেও যার কাছে কল করা হচ্ছে, তার ফোনে কোনো কলই পৌঁছাচ্ছে না।

ওয়ান-ওয়ে অডিও: কল কানেক্ট হলেও একদিকের কথা অন্যপক্ষ শুনতে পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সিগন্যাল ফুল থাকা সত্ত্বেও ফোন "আউট অফ রিচ" দেখাচ্ছে।

কেন এই সমস্যা ?সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএসএনএল বর্তমানে সারা দেশে তাদের স্বদেশি ৪জি (4G) নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছে। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), তেজাস নেটওয়ার্কস এবং সি-ডট (C-DOT)-এর তৈরি এই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলেই কিছু কারিগরি ত্রুটি বা 'গ্লিচ' দেখা দিচ্ছে।

পুরানো ২জি/৩জি টাওয়ারগুলোকে ৪জি-তে রূপান্তর করার সময় নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতায় ব্যাঘাত ঘটছে।

ডেটা স্পিড মোটামুটি ঠিক থাকলেও, ভয়েস কলিংয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন সিস্টেমের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সমস্যা হচ্ছে।

কেরলের মতো জায়গায় কেন এই হাল ?কেরলকে বিএসএনএল-এর সবচেয়ে বড় দুর্গ মনে করা হয়। কিন্তু সেখানেও ৪জি রোল-আউট এবং টেস্টিং চলার কারণে সাধারণ পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক গ্রাহক অতিষ্ঠ হয়ে বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলোর (Jio, Airtel) দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্র বেশ ভাল হয়েছে। বিগত কিছু ত্রৈমাসিকে কোম্পানি লাভের মুখ দেখেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ বছর পর এই সুখবর এসেছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। দেশজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৪জি সাইট তৈরির কাজ চলছে এবং এই টেস্টিং পর্ব মিটে গেলেই গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।