নয়াদিল্লি: অন্তত এক বছর সোনা কেনা বন্ধ রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তার পরই সোনা, রুপো এবং মূল্যবান ধাতু আমদানির উপর শুল্ক বৃদ্ধি করল কেন্দ্রীয় সরকার। ৬ থেকে একধাক্কায় সোনা, রুপোর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হল ১৫ শতাংশ। প্ল্যাটিনাম আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ৬.৪ থেকে ১৫.৪ করা হল। সোনা আমদানি ঠেকিয়ে, সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ার নিরাপদ রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। (Gold Customs Duty)

Continues below advertisement

১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) চাপানো হয়েছে। এতে সোনা আমদানিতে লাগাম টানা যাবে বলে আশাবাদী কেন্দ্র। এর ফলে বাণিজ্যে ঘাটতি কমবে, ডলার প্রতি টাকার পতনও রোখা যাবে বলে মনে করছে তারা। কারণ ডলার প্রতি টাকার দর সর্বকালীন তলানিতে এসে ঠেকেছে, ৯৫.৭৫ শতাংশে। (PM Modi Gold Purchase Warning)

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ শৈবাল কর। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী  বলেছিলেন এক বছর সোনা না কিনতে। শেষ পর্যন্ত ভরসা না করে আমদানি শুল্ক বসানো হয়েছে। ভারত বিদেশের বাজার থেকে যে সোনা কেনে, সোনার তাল...তা কেনার খরচ বিরাট বেড়ে যাবে। SBI রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতি সহকারে সোনার তাল কিনে থাকে। আমদানি শুল্ক এতটা বাড়লে, যাঁরা সোনা কিনছেন, স্বর্ণব্যবসায়ীদের জন্য দুঃসংবাদ। এর উপর প্রচুর মানুষের জীবন-জীবিকা, রুটি-রুজি নির্ভর করে। মুম্বইয়ের জাভেরী বাজারে যে সোনার ব্যবসা হয়ে থাকে, তার সাপ্লায়ার চেনটা কিন্তু কলকাতা। কলকাতায় সমস্ত অলঙ্কার তৈরি হয়। কলকাতা থেকে বম্বে যায়। তার পর সারা বিশ্বে পৌঁছে যায়। অলঙ্কার, রত্ন ভারতের অন্যতম রফতানিযোগ্য পণ্য। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাব ভাবছি আমরা। কিন্তু রফতানি থেকে রোজগার কার বিদেশি মুদ্রাও ধাক্কা খাবে। সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ারও ধাক্কা খাবে। সরকার কী ভাবছে জানা নেই। কিন্তু সঙ্কট যদি এতটাই গুরুতর হয়, তাহলে আলোচনার পর শুল্ক আরোপ করা উচিত। তার সুযোগ দেখতে পাইনি আমরা। বিদেশ যাওয়া বা মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বাধা আসবে। সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রা ভাঁড়ার রক্ষার্থে সরকার হয়ত যত রকম নির্দেশিকা প্রয়োজন করতে শুরু করবে। তবে তার আগে আলোচনার প্রয়োজন ছিল।"

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: পাঠ্যবই থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের অংশ সরানোর দাবি, ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজ সাথী’, ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পেও ‘পরিবর্তনে’র ডাক

মাত্র এক সপ্তাহও আগেও সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বসতে পারে বলে ধারণা ছিল না কারও। তবে গত রবিবার এবং তার পর সোমবার দেশবাসীকে এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ রাখতে বলেন মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধপরিস্থিতিকে সামনে রেখে সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ার রক্ষার কথা শোনা যায় তাঁর মুখে। আর তার পরই এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করায় সোনার চাহিদায় ঘাটতি দেখা দেবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সোনা ক্রয় করা গ্রাহকের সংখ্যার নিরিখে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। রুপো কেনার গ্রাহকের নিরিখে প্রথম স্থানে। কিন্তু বর্তমানে সোনা-রুপোর যা দাম, তার উপর আমদানি শুল্কও বৃদ্ধি হল, ফলে সাধারণ মানুষ আর সোনা কেনার দিকে ঝুঁকবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়াল কেন্দ্র, মোদির সতর্কবার্তার পরই

গত এক বছরে সোনার দাম যেমন তরতরিয়ে বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সোনার চাহিদাও। World Gold Council-এর হিসেব বলছে, মার্চের শেষ সময় পর্যন্ত ভারতের ‘গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে’ বিনিয়োগ গত বছর মার্চ ত্রৈমাসিকের চেয়ে ১৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছে গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই সোনা আমদানি কমাতে শুরু করেছে ভারত। সোনা এবং রুপো আমদানিতে GST বসেছে ৩ শতাংশ। ব্যাঙ্কগুলিও বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রাখে। এপ্রিল মাসে সোনা আমদানি গত ৩০ বছরের তুলনায় সর্বনিম্নে ছিল।