কলকাতা: পাঠ্যবই থেকে ‘সিঙ্গুর আন্দোলনে’র অংশ সরানোর দাবি। রাজ্যে পালাবদলের পরই দাবি তুলল বামপন্থী সংগঠন। রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্য়প্রাপ্ত স্কুলগুলিতে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য়বই থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের অংশ সরানোর দাবি তোলা হয়েছে। সেই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতরকে। (West Bengal School Education)
বামপন্থী সংগঠন ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র তরফে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের অংশ সরানোর দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, তৃণমূলের আমলে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণির পডুয়াদের হাতে যে ট্যাব কেনার টাকা তুলে দেওয়া হতো, তাও বাতিল করার দাবি জানিয়েছে ওই সংগঠন। (Secondary Teachers & Employees' Association)
আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ রথ খুনে এবার তদন্তে CBI, রাজ ও ভিকিকে ‘সুপারি’ দিল কে?
ট্যাবের টাকা বন্ধ নিয়ে ওই সংগঠনের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের ট্যাব দিকে বছরে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তাই ছাত্রছাত্রীদের হাতে ট্যাবের টাকা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে স্কুলগুলির সার্বিক কাঠামোর উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হোক ওই অর্থ। শিশুশ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যক্রম বদলে তাকে বিজ্ঞানসম্মত এবং যুগপোযোগী করে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্রেফতার 'বাংলা পক্ষ'র গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?
সব মিলিয়ে ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র প্রতিনিধিরা। সংগঠনের তোলা দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজ সাথী’র মতো প্রকল্পগুলিও। বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আর্থিক মাপকাঠির উপর ভিত্তি করেই দেওয়া উচিত।
পাশাপাশি, পার্শ্বশিক্ষক, SSKM, সমগ্র শিক্ষাকর্মী, NSQF-সহ শিক্ষা দফতরের অধীন সব চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির যে প্রস্তাব আটকে ছিল, তা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের পদোন্নতির ব্যবস্থাও চালু করার দাবি জানিয়েছে ওই সংগঠন।
সমস্ত বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গকেও পরিচালন সমিতির অংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের নীল-সাদা পোশাক পরার যে নিদান, তাও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’।
উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষিকাদের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারা করা থেকে ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল চালুর দাবিও রয়েছে।
২০১১ সালে বামেদের উৎখাত করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এর পর ২০১৬ সাল নাগাদ অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের 'অতীত ও ঐতিহ্য' বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন পর্বকে যুক্ত করা হয়। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের লড়াইয়ের উল্লেখ রয়েছে যেমন, ২০১৬ সালে সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তাঁর সরকারের জয়ের উল্লেখও রয়েছে। সেই নিয়ে বরাবরই বিতর্ক। ২০২৬ সালে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ওই অংশ বাদ দেওয়ার দাবি জমা পড়ল।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI