নয়াদিল্লি: আলাপ-আলোচনাই সার হল। পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হল না। আর তার ফলস্বরূপ ভারতের উপর চড়া শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১ অগাস্ট থেকে ভারতের উপর ২৫ শতাশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পেনাল্টি দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। আর সেই ঘোষণা হতেই দেশের অন্দরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস তীব্র আক্রমণ করেছে তাঁকে। (Donald Trump Tariff Announcement)
বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের উপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক ও পেনাল্টির ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর ফলে আমেরিকার বাজারে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ভারতীয় সংস্থা ও ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের। আর তাতেই মোদিকে বেঁধে কংগ্রেস। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লেখা হয়, 'ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি, পেনাল্টিও চাপিয়েছেন। মোদি ট্রাম্পের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন। 'অব কি বার ট্রাম্প সরকার' স্লোগানও তুলেছিলেন। হারিয়ে যাওয়া ভাইকে ফিরে পাওয়ার মতো দেখলেই জড়িয়ে ধরেন। প্রতিদানে ট্রাম্প এত চড়া শুল্ক চাপালেন ভারতের উপর। এটা দেশের বিদেশনীতির ব্যর্থতার ফলশ্রুতি। একজনের বন্ধুত্বের মাশুল দিতে হচ্ছে গোটা দেশকে'। (Congress Slams Modi over US Tariff)
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ লেখেন, 'অত তারিফ করলেন মোদি, সব বিফলে গেল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভারতকে বার বারা অপমান করেছেন, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ৩০ বার অন্য দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করেছেন, IMF এবং বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে পাকিস্তানকে অর্থ পেতে সাহায্য় করেছেন। ভারতের এত অপমান সত্ত্বেও চুপ থেকেছেন মোদি। ভেবেছিলেন, ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন ট্রাম্প। কিন্তু তা যে হয়নি স্পষ্ট। ইন্দিরা গাঁধীকে দেখে শেখা উচিত, কীভাবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে হয়'।
সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বলেন, "অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সরকার লাগাতার বলে আসছে আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যচুক্তি হবে। এখন হঠাৎ করে ট্রাম্প এই ঘোষণা করলেন। ঘটনাচক্রে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ট্রাম্পের খারাপ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলাম আমরা। এখন আবার পেনাল্টিও চাপালেন।"
ভারতের উপর যে চড়া শুল্ক ও পেনাল্টির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রেও তা নিয়ে অসন্তোষ ধরা পড়েছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের CEO তথা DG অজয় সহায় বলেন, "২৫ শতাংশ শুল্ক অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা আমেরিকার সঙ্গে কথা বলছি। ট্রাম্প যে পেনাল্টির কথা বলেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।"
যদিও বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সারঙ্গির বক্তব্য, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বগুণ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী আমরা। আমেরিকা এই কৌশলে সফল হবে না। আমরা এর পাল্টা কৌশল নেব।"