নয়াদিল্লি: যে ভাবে লাগাতার দাম বেড়ে চলেছে, তাতে খুব শীঘ্রই মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে পারে সোনা। আর সেই আবহেই আশঙ্কার কথা শোনাল আমেরিকার অর্থনৈতিক সংস্থা JP Morgan. তারা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে আউন্স প্রতি সোনার দাম ৪০০০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। ১ আউন্সের অর্থ ২৮.৩৪ গ্রাম। আর ১১.৬৬ গ্রাম সোনায় ১ ভরি হয়। ৪০০০ ডলার আবার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। (Gold Price)
JP Morgan জানিয়েছে, আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে শুল্কযুদ্ধ যে আকার ধারণ করেছে, তাতে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। JP Morgan আরও জানিয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় চাহিদা বেড়ে গেলে, চলতি বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকেই সোনার দাম আউন্স প্রতি ৩৬৭৫ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। (Surging Gold Price)
২২ এপ্রিল সর্বপ্রথম সোনার দাম প্রতি আউন্সে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫০০ ডলার ছোঁয়, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। ভারতে সোনার দাম ইতিমধ্যেই প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষের কোটা পেরিয়ে গিয়েছে। আগামীতে তা আরও বাড়লে সোনায় হাত ছোঁয়ানো অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে ভারতীয়দেরও। JP Morgan-এর পূর্বাভাস বলছে, ২০২৫ সাল শেষ হতে হতেই সোনার দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।
কেন সোনার দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে পারে, তার কারণও খোলসা করেছে JP Morgan. তাদের দাবি, সোনায় বিনিয়োগ বাড়ছে যেমন, বাড়ছে সোনার চাহিদাও। আমেরিকার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে ইতিমধ্যেই সোনার চাহিদা বেড়ে প্রতি ত্রৈমাসিকে গড়ে ৭১০ টন হয়ে গিয়েছে। তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে যদি চাহিদা হ্রাস পায়, শুল্কনীতি নিয়ে ট্রাম্প যদি একরোখা ভাব ছেড়ে নমনীয় বন, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে বলে দাবি JP Morgan-এর।
এর পাশাপাশি, রুপো নিয়েও আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে JP Morgan. তাদের দাবি, শিল্পক্ষেত্রে রুপো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে রুপোর দাম আউন্স প্রতি ৩৯ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩৩৩৩ টাকা। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির উপর এই মুহূর্তে অনেক কিছু নির্ভর করছে, সোনা-রুপোর দাম থেকে তাবড় দেশের অর্থনীতি। সেই আবহে JP Morgan-এর পূর্বাভাস ঘিরে আশঙ্কা বাড়ছে।