Gold Price Prediction : ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের (Iran Israel War) মাঝেই এবার কমেই চলেছে সোনার দাম (Gold Rate)। মাঝে বিরাট লাফ দিলেও অনেকটাই কমে গিয়েছে গোল্ড রেট (Gold Price)। সেই ক্ষেত্রে এখন সোনা কিনলে কি আপনার লাভ (Profit) হবে। 

Continues below advertisement

প্রতি ১০ গ্রামে ১.৬০ লক্ষ টাকার নিচে নেমে এসেছেবিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এবং ইরান-মার্কিন যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ভারতীয় বাজারে বড়সড় পতনের মুখে সোনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর 'মনস্তাত্ত্বিক' বাধা ভেঙে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১.৬০ লক্ষ টাকার নিচে নেমে এসেছে। শুক্রবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দাম কিছুটা কমে ১,৫৮,৪০০ টাকায় থিতু হয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কমেক্স (COMEX)-এ সোনার দাম বর্তমানে প্রতি আউন্স ৫,১২০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।

কেন কমছে সোনার দাম ?বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিনটি কারণে সোনার এই নিম্নমুখী প্রবণতা:

Continues below advertisement

শক্তিশালী মার্কিন ডলার: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং তেলের দাম বাড়ার ফলে মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সোনার দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি: মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বা বন্ডের মুনাফার হার ৪.২৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বন্ডের হার বাড়লে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে সেখানে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী হন।

সুদের হারের অনিশ্চয়তা: মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ শীঘ্রই সুদের হার কমাবে—এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শচয়েস ব্রোকিংয়ের কমোডিটি বিশেষজ্ঞ আমির মাকদা মনে করেন, আগামী সেশনগুলোতে সোনা কিছুটা 'বেয়ারিশ' বা নিম্নমুখী থাকতে পারে। তিনি এই মুহূর্তে 'সেল অন রাইজ' (দাম বাড়লেই বিক্রি করা) কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, এনরিচ মানি-র সিইও পনমুডি আর. জানিয়েছেন:

যতক্ষণ দাম ১,৫৮,০০০ টাকার উপরে রয়েছে, ততক্ষণ সোনার দাম পুনরায় ১,৬২,০০০ থেকে ১,৬৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে যদি দাম ১,৫৭,০০০ টাকার নিচে নেমে যায়, তবে তা আরও কমে ১,৫০,০০০ টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে সোনার বাজার ইতিবাচক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে ছোট মেয়াদের বিনিয়োগকারীদের সাবধানে পা ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।