Baba Ramdev : ভারতের চেতনায় বদলে যাচ্ছে বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। যেখানে আয়ুর্বেদের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই কাজে অন্যতম ভূমিকা নিচ্ছে পতঞ্জলি, ডাবর ও হিমালয়ের মতো সংস্থা। আয়ুর্বেদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে এরা। বর্তমানে এই সংস্থাগুলি আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও পণ্যগুলিকে প্রমাণ সহকারে চিকিৎসা ব্যবস্থায় তুলে ধরছে। যার জন্য অনবরত গবেষণা চালাচ্ছে এই সংস্থাগুলি।

কী কী রোগের প্রতিকারে ব্যবহার হচ্ছেএই সংস্থাগুলি এখন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও স্ট্রেসের মতো রোগের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকারের ওষুধ তৈরি করছে। আসলে আয়ুর্বেদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি মন, শরীর ও আত্মার ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে। যা আদতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাগুলির পরিপূরক হিসাবে কাজ করে।

দেশে এখন প্রাকৃতিক চিকিৎসা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেভারতের আয়ুর্বেদের চিকিৎসা পদ্ধতি এখন আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মিশে গেছে। যেখানে পতঞ্জলি প্রাকৃতিক চিকিৎসাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে। পতঞ্জলি দাবি অনুসারে, তাদের কিডনির ওষুধ 'রেনোগ্রিট' নিয়ে গবেষণাপত্র ২০২৪ সালে ওয়ার্লড জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টসের সেরা ১০০টি গবেষণার মধ্যে স্থান করে নিয়েছিল। এছাড়াও, ৫০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী পতঞ্জলির গবেষণাগারে পণ্যের গুণমান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেন।

আরও কী চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছেকোম্পানি জানিয়েছে, “ঐতিহ্যবাহী ‘কোলহু’ (উড প্রেস) পদ্ধতির মাধ্যমে নিষ্কাশিত সরষের তেল ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে। যা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে।” পতঞ্জলি দাবি করেছে, তাদের পণ্যগুলি ৭০টিরও বেশি দেশে রফতানি করা হয়। যেখানে ৪,৭০০ টিরও বেশি খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে এই পণ্য পাওয়া যায়। 

বর্তমানে এই দেশীয় ব্র্যান্ড বিদেশি এফএমসিজি কোম্পানিগুলিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দিয়েছে । আয়ুর্বেদিক পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পাশাপাশি বিগ বাজার ও রিলায়েন্সের মতো দোকানগুলিতেও এখন এই পণ্য় রাখা হয়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর জোর ডাবর ও হিমালয়ের মতো অন্যান্য ভারতীয় আয়ুর্বেদিক কোম্পানিগুলিও বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর জোর দিচ্ছে। ডাবর চ্যবনপ্রাশ - যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিখ্যাত, এর ক্লিনিকাল ট্রায়াল ২০২০ সালে জার্নাল অফ আয়ুর্বেদ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছিল। যা এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলির বিষয়ে নিশ্চিত করে। ইতিমধ্যে, হিমালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের ২০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী ভেষজের সক্রিয় উপাদানগুলি বিশ্লেষণ করেছেন।

কী রয়েছে এর মধ্যেএই আয়ুর্বেদিক কোম্পানিগুলি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর জোর দেয়। এই প্রোডাক্টগুলি মন, শরীরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। এই সংস্থার পণ্যগুলি পরিবেশবান্ধব রীতি মেনে তৈরি হয়। কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্য নিয়েছে এই ভারতীয় কোম্পানিগুলি।