নয়াদিল্লি: সাময়িক ভাবে ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলেছে আমেরিকা। আগামী ৩০ দিনের জন্য ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোপণ্য কেনা যাবে, যেগুলি সাগরে আটকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তাতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে আমেরিকা। সেই ঘোষণা হতেই ভারত-সহ একাধিক দেশের শোধনাগারগুলি নতুন করে ইরানের থেকে তেল কিনতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। কিন্তু ইরান জানিয়েছে, তাদের কাছে ভাসমান অবস্থায় বা অতিরিক্ত কোনও অপরিশোধিত তেল মজুত নেই। (Iran Oil)
আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও, সেই তেল কোন উপায়ে কেনা যাবে, কী ভাবে দাম মেটানো হবে, সেই নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে দিল্লি। সেই আবহেই ভারতের তিনটি সংস্থা ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা করছে তারা। (US-Iran War)
শুক্রবার আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সাগরে আটকে থাকে ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রিতে অনুমোদন দেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলে দাম ১০০ ডলারে পৌঁছে যাওয়াতেই আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে জানা যায়। এমন পরিস্থিতিতে আশায় বুক বাঁধছে ভারতীয় শোধনাগারগুলি। কারণ সাময়িক ভাবে রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় অনুমোদন মিলেছে আগেই। ইরান থেকেও তেল আমদানি করতে পারলে ভাঁড়ারে সঞ্চয় বাড়বে বলে মনে করছে তারা।
কিন্তু ভারতীয় সংস্থাগুলির আশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে ইরান। তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারকে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল নেই তেহরানের কাছে। ইরানের তৈল মন্ত্রকের মুখপাত্র সামন গোড্ডুসি সোশ্য়াল মিডিয়ায় লেখেন, ‘বর্তমানে ইরানের হাতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল নেই, না ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, না আন্তর্জাতিক বাজারকে দেওয়ার মতো রয়েছে কিছু। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি ক্রেতাদের মনে আশা জাগাতে ওই মন্তব্য করেছেন’।
ভারত ৯০ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে ভারতেও জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এশিয়ার অন্য দেশগুলির তুলনায় ভারতের মজুত এমনিতেই কম। তাই রাশিয়ার উপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা উঠলে, ভারত কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়ে তেল কিনতে। কিন্তু ইরানের থেকে তেল পাওয়া যাবে কি না, সেই নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে।
ঐতিহাসিক ভাবে ইরানের সঙ্গে বারবর সুসম্পর্ক ছিল ভারতের। ২০১৮ সালে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আগে পর্যন্ত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভারতই। পরবর্তীতে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা শুরু হয়। কিন্তু রাশিয়ার উপরও আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপালে, মস্কোর থেকে তেল কেনা বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের আবহে সম্প্রতি এক মাসের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কিনতে ভারতকে অনুমতি দেয় আমেরিকা। কিন্তু আগের মতো আর তেলের উপর রাশিয়া ছাড় দিচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
