শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : ব্যাটেলফিল্ড ভবানীপুর। শনিবার কালীঘাটে মায়ের কাছে পুজো দিয়েই দিন শুরু করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন রেড রোডে ইদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী, তখন মা কালীর কাছে পুজো দিলেন শুভেন্দু। হাতের পদ্ম দেখিয়ে বললেন, ' মা আমায় এটা দিয়েছেন'। বহু সমর্থকদের সঙ্গে মাথায় ডালা নিয়ে ঢুকলেন মন্দিরে। মুখে জয় মা কালী, জয় মা ভবানী স্লোগান ! '

Continues below advertisement

'গেরুয়া বসন পরা সন্ন্যাসীদের উপর অত্যাচার আর না...'

শুভেন্দু অধিকারী বললেন, 'অনাচার ব্যাভিচার অত্যাচার, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, আদিবাসীদের উপর আক্রমণ, সব বন্ধ হোক, সব ভাল হোক। নারীরা ভাল থাকুক। আর জি কর আর না। দেব দেবীর মূর্তির উপর আক্রমণ আর না। গেরুয়া বসন পরা সন্ন্যাসীদের উপর অত্যাচার আর না। গীতা প্রচারে বাধা দেওয়া আর না। মা সবাইকে ভাল রাখুক। বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড। পশ্চিমবঙ্গের ভাল হোক, মা আমাকে যেন সেই শক্তি দেন। মা এটা দিয়েছেন আমাকে। '   

Continues below advertisement

চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে সবার নজর এখন  ভবানীপুর বিধানসভার দিকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে  নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পরই  বৃহস্পতিবার সকাল সকাল  বিজেপি কর্মীদের নিয়ে প্রচার নামেন। কর্মীদের অনেকেরই অভিযোগ, প্রচার করতে গেলেই হুমকি পেতে হচ্ছে তাঁদের। শুনেই  ভবানীপুর থানাতে যান শুভেন্দু। পুলিশকে হুঁশিয়ারিও দেন।   

বড় রাজনৈতিক ভোটযুদ্ধ হতে চলেছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে বিজেপি প্রার্থী করেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সেই যুদ্ধে নিজের প্রথম চাল হিসাবে প্রচার শুরু করে দিলেন পদ্মশিবিরের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল সকাল কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ভবানীপুর বিধানসভার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে প্রচার নামেন তিনি। প্রচার সেরে কর্মীদের অভিযোগ পেয়ে ভবানীপুর থানাতেও হানা দেন শুভেন্দু। বদলির আবহেই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু।

ভবানীপুরে প্রচারের প্রথম দিন গলায় মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন কর্মী সমর্থকরা। যদিও শুভেন্দুর প্রচারের পথেই তৃণমূলের কর্মীরা মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ...জয় বাংলা স্লোগান তোলে। শনিবারও সকাল থেকে সরগরম প্রচার। এখন দেখার ভবানীপুরের মানুষ কোনদিকে যান? উত্তর মিলবে ৪ মে।