Iran US War : ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি (US Iran Ceasefire) এক লহমায় বদলে দিয়েছে বিশ্বের আর্থিক মানচিত্র (World Economy)। এতদিন যারা মন্দার আশঙ্কায় দিন গুণছিলেন, এবার সেই বাজার বিশেষজ্ঞরাই দিচ্ছেন ইতিবাচক ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে ১৫ দিনের যু্দ্ধবিরতি আশা জাগাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। মার্কেট এক্সপার্টরা বলছেন, শীঘ্রই ভারতের বাজারে কমে যেতে পারে এই জিনিসগুলির দাম। রইল তালিকা।
পেট্রোল, ডিজেলের দাম কমবে !এই যুদ্ধ বিরতিতে সবার আগে দাম কমবে পেট্রোল-ডিজেল ছাড়াও রান্নার গ্যাসের। বিশ্ব বাজারে হরমুজ খুলে দেওয়ার পরই এই বিষয়ে আশা জাগছে সবার মনে। এর পিছনে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান যুদ্ধের সময় এই ব্রেন্ট ক্রডের দাম ব্য়ারেল প্রতি ১১৫ ডলারে চলে গিয়েছিল। যা এবার ১৪ শতাংশ কমে ৯৫ ডলারে চলে এসেছে। এর ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমতে পারে। তবে এখনই এই দাম কমার সুযোগ কম। কারণ তেল বিপণন কোম্পানিগুলি তাদের লোকসান ও আয়করের বিষয়ে আগে চিন্তা করবেন।
৭-১০ দিনের মধ্যে কমতে পারে দাম ?পেট্রোল-ডিজেলের ক্ষেত্রে এই দাম কমার বিষয়টি ৭-১০ দিনের মধ্য়ে হতে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে আগামী দিনে রান্নার গ্যাসের দামেও তার প্রভাব দেখতে পাবে দেশবাসী। তাই LPG সিলিন্ডারের দাম কমার বিষয়টিও ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে প্রথমেই গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম না কমলেও বাণিজ্য়িক গ্যাস ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমতে পারে। এর ফলে রেস্তোরাঁ, দোকানে খাবারের দাম কমে যাবে।
এই জিনিসগুলির দাম সস্তা হতে পারে !পেট্রোল, ডিজেলশাকসবজি ও ফলমূলরান্নার তেলডালখাদ্যসামগ্রীস্মার্টফোনল্যাপটপ ও পিসিটিভিরেফ্রিজারেটরওয়াশিং মেশিনযানবাহনবিদেশ থেকে আমদানি করা পোশাক
বিমানের টিকিটের দাম কমবে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম কমছে। এর প্রভাবে ‘এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল’ (ATF)-এর দামও কমবে। স্বাভাবিকভাবেই এই অয়েল কমলে বিমান সংস্থাগুলির ব্যয় কমবে, ফলে যাত্রীদের ওপর খরচের বোঝা কমবে। আগামী দিনে এই যুদ্ধবিরতি বিমানের টিকিট সাশ্রয়ী করে তুলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শাকসবজি, দুধ, খাদ্যশস্যের দাম স্বাভাবিক হবে দ্বিতীয়ত, ডিজেলের দাম কমলে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থার খরচও হ্রাস পাবে; যার সুবাদে শাকসবজি, দুধ, খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কমে আসবে। এছাড়া কাঁচামালের দাম কমায় প্লাস্টিক সামগ্রী, প্যাকেজিং উপকরণ, টায়ার এবং সিন্থেটিক পোশাকের মতো পণ্যগুলোর দামও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে, এই পরিবর্তনগুলির প্রভাব রাতারাতি দেখা যাবে। সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সাপ্লাই চেইন’ পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে ও নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হতে ১ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তাছাড়া, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধবিরতিটি কেবল সাময়িক। একমাত্র তখনই এর পূর্ণ সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে—যদি এই চুক্তিটি একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয়। সেই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারও কর বা শুল্কের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেবে।
