India China Relation : আমেরিকা-ইজরায়েল ইরানের (US Iran Israel War) বিরদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারত। খুলে দেওয়া হল ভারতের সরাসরি বিনিয়োগের দ্বার। চিনের জন্য এই বাণিজ্যের সুবিধার দরজা খুলে দিল নয়াদিল্লি। কী সুবিধা হবে ভারতের ?

Continues below advertisement

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্য়ে বদলে গিয়েছে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণের জবাবে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান—ঠিক সেই সময়েই এক বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাল দিল ভারত সরকার। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য, বিশেষ করে চিনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘদিনের কড়া ‘এফডিআই’ (FDI) নীতিতে বড়সড় শিথিলতা আনা হল।

কী এই নতুন নিয়ম ?সোমবার ভারতের ‘ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড’ (DPIIT) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী:১০ শতাংশের ছাড়: এখন থেকে যে সমস্ত বিদেশি সংস্থায় চিনা বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ বা তার কম, তারা সরাসরি বা ‘অটোমেটিক রুট’-এ ভারতে বিনিয়োগ করতে পারবে।

Continues below advertisement

বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ: আগে প্রতিবেশী দেশের সামান্যতম অংশীদারি থাকলেও সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতো। এখন 'প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট' (PMLA) অনুযায়ী, শুধুমাত্র যদি কোনও চিনা ব্যক্তি বা সংস্থা ১০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হয়, তবেই তাকে 'প্রকৃত মালিক' বা 'বেনিফিশিয়াল ওনার' হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সরকারি অনুমতির প্রয়োজন পড়বে।

কড়াকড়ি যেখানে থাকছে : চিন বা হংকংয়ে সরাসরি রেজিস্ট্রি করা কোনও কোম্পানি বা ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত রয়েছে এমন দেশের মূল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য নয়।

কেন এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ ?২০২০ সালে করোনা মহামারি চলাকালীন ভারত সরকার ‘প্রেস নোট ৩’ জারির মাধ্যমে চিনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিনিয়োগের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা বসিয়েছিল। এর ফলে অনেক গ্লোবাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড সমস্যায় পড়েছিল, কারণ তাদের তহবিলে চিনাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগ ছিল।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, যেখানে ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে ভারত নিজের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এবং বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করতে এই নমনীয় পথ বেছে নিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিসংখ্যানে ভারত-চিন বিনিয়োগসরকারি তথ্য বলছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) মাত্র ০.৩২ শতাংশ এসেছে চিন থেকে। নতুন এই নিয়মের ফলে প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগের জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।