Milk Based Ice Cream : আমুলের পথেই এবার হাঁটল বিশ্বের নামী আইসক্রিম ব্র্যান্ড কোয়াালিটি (Kwality Wall’s)। আর পাম অয়েল দিয়ে 'ফ্রোজেন ডেসার্ট' (Frozen Desert) বিক্রি নয়, এবার সব দুধের আইসক্রিম (Ice Cream) বিক্রি করবে কোম্পানি। পাশাপাশি সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগের থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে এই প্রোডাক্টগুলি। 

Continues below advertisement

কী থেকে এই ঘোষণাবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি আমুলের বিজ্ঞাপন দেখে আইসক্রিমের আসল ধারণা সম্পর্কে সচেতন হয় দেশবাসী। যেখানে দেখানো হয়, আমুল যে আইসক্রিম তৈরি করে তা হল আসল আইসক্রিম। বাকিরা সবই ফ্রোজেন ডেসার্ট তৈরি করে। পাম অয়েল দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি হয় সেই ক্রিম। যা পরে ফ্রোজেন ডেসার্টের রূপ নেয়। তাই আর ফ্রোজেট ডেসার্ট খেতে চাইছে না দেশবাসী। কোয়ালিটির যেহেতু বেশিরভাগ প্রোডাক্ট দুধ থেকে তৈরি নয়, তাই এবার দুগ্ধজাত আইসক্রিম তৈরির পথে হাঁটছে কোযালিটি।

আইসক্রিমের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্তবর্তমানে ভারতের আইসক্রিম বাজারে এক বিরাট পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এতদিনের চেনা কোয়ালিটি ওয়ালস (Kwality Wall’s) এবার তাদের চেনা রূপ বদলে পুরোপুরি দুধের তৈরি আইসক্রিম বা 'ডেয়ারি-বেসড' প্রোডাক্টে রূপান্তরিত হতে চলেছে। এর মধ্যে থাকছে ম্যাগনাম (Magnum) এবং কর্নেটো (Cornetto)-র মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলিও। শুধু তাই নয়, গ্রাহকদের পকেটের কথা ভেবে আইসক্রিমের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

Continues below advertisement

কোথাকার কোম্পানি কোয়ালিটিনেদারল্যান্ডসে অবস্থিত এই বহুজাতিক সংস্থার গ্লোবাল সিইও পিটার টার কুলভে (Peter ter Kulve) একটি সাক্ষাৎকারে জানান, বিশ্বজুড়ে কোয়ালিটি ওয়ালস কোনো 'ফ্রোজেন ডেজার্ট' কোম্পানি নয়, এটি একটি আইসক্রিম কোম্পানি। তাই ভারতেই তারা এই আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছেন। চলতি বছরেই তাদের পোর্টফোলিওর অর্ধেক এবং আগামী বছরের মধ্যে বাকি অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণ ডেয়ারি-বেসড বা দুগ্ধজাত পণ্যে রূপান্তরিত হবে।

এতকাল কী দিয়ে তৈরি হতো কোয়ালিটি ওয়ালসের আইসক্রিম ?এই খবরটি সামনে আসার পরই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, যদি এখন থেকে এগুলো দুধ দিয়ে তৈরি হয়, তবে এতদিন কী দিয়ে তৈরি হতো? রিপোর্ট অনুযায়ী, এতদিন ভারতে কুয়ালিটি ওয়ালসের প্রোডাক্টগুলি মূলত 'ফ্রোজেন ডেজার্ট' হিসেবে বিক্রি হতো, যা তৈরিতে দুধের ফ্যাটের বদলে পাম অয়েলের মতো উদ্ভিজ্জ চর্বি বা ভেজিটেবল ফ্যাট (Vegetable Fats) ব্যবহার করা হতো।

কেন ভারতে এই সিদ্ধান্তসংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় গ্রাহকরা দিন দিন স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছেন এবং তারা উদ্ভিজ্জ ফ্যাটের চেয়ে দুধের তৈরি আইসক্রিমকে বেশি পুষ্টিকর ও উন্নত মানের মনে করেন। গ্রাহকদের এই চাহিদাকে মান্যতা দিয়েই এই বড় পদক্ষেপ।

দাম কমবে ৩০% পর্যন্ত, সঙ্গে থাকছে লোকাল ফ্লেভারভারতীয় বাজারের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।

দাম হ্রাস: বেশ কিছু ক্যাটাগরিতে আইসক্রিমের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে।

দেশি ফ্লেভার: ভারতীয়দের মুখের স্বাদকে গুরুত্ব দিতে মেনুতে যুক্ত হচ্ছে কুলফি এবং কেসর ভোগ-এর মতো খাঁটি লোকাল ফ্লেভার।

ভারতকে পাখির চোখ করছে ইউনিলিভারসম্প্রতি ইউনিলিভার (Unilever) তাদের গ্লোবাল আইসক্রিম ব্যবসাকে আরও স্বাধীন ও নমনীয় করতে মূল সংস্থা থেকে আলাদা করেছে। বর্তমানে ভারতে তাদের আইসক্রিম ব্যবসা প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের। সংস্থার লক্ষ্য, আগামী দিনে ভারতকে তাদের বিশ্বের বৃহত্তম বাজারে পরিণত করা।

ভারতে কোথায় কোম্পানিবর্তমানে ভারতের কেবল নাসিক থেকেই সারা দেশে আইসক্রিম সরবরাহ করা হয়, যা লজিস্টিকসের দিক থেকে বেশ কঠিন। সিইও পিটার টার কুলভে জানান, তুরস্কের মতো দেশে প্রতি ৩৫০ জনের জন্য একটি করে আইসক্রিম ক্যাবিনেট (ফ্রিজার) রয়েছে। ভারতেও ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তাদের লক্ষ্য প্রায় ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) ক্যাবিনেট স্থাপন করা।

আরও পড়ুন : জলে ভিজবে না, ছেঁড়া যাবে না ! কাগজের বদলে এবার 'প্লাস্টিক নোট ' চালু হবে বাজারে ?