Gas Cylinder News : ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার Iran Israel US War চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি তথা মজুতদারি রুখতে এবার এলপিজি (LPG) বুকিংয়ের নিয়মে বদল আনল সরকার।
রান্নার গ্যাসের নিয়মে বড় বদল, বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়লভারত সরকার ঘরোয়া রান্নার গ্যাস (Domestic LPG) বুকিংয়ের অন্তর্বর্তী সময় ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। অর্থাৎ, একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করার জন্য গ্রাহককে এখন অন্তত ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত ? সরকারি সূত্রে খবর, যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে (Panic Booking) দ্রুত সিলিন্ডার বুক করছিলেন। যেখানে সাধারণ মানুষ গড়ে ৫৫ দিনে একটি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, সেখানে হঠাৎ দেখা যায় ১৫ দিনের মাথাতেই অনেকে রিফিল বুক করছেন। এই কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট রুখতেই ২৫ দিনের 'লক-ইন পিরিয়ড' চালু করা হয়েছে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি (৭ মার্চ থেকে কার্যকর)আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতার কারণে রান্নার গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে:
১৪.২ কেজি সিলিন্ডার: দাম বেড়েছে ৬০ টাকা।
১৯ কেজি কমার্শিয়াল সিলিন্ডার: দাম বেড়েছে ১১৫ টাকা।
জোগান নিশ্চিত করতে সরকারের বিকল্প পরিকল্পনাপশ্চিম এশিয়ায় (বিশেষ করে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে) যুদ্ধের আবহে ভারতের এনার্জি সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় হয়েছে:
উৎপাদন বৃদ্ধি: শোধনাগারগুলিকে (Refineries) এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক সংযোগের চেয়ে ঘরোয়া রান্নার গ্যাস উৎপাদনে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
আমদানি: ভারত বর্তমানে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের মতো দেশগুলো থেকে এলপিজি আমদানির কথা ভাবছে। এমনই ANI সূত্রে খবর।
মজুত ভাণ্ডার: সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ২৫ দিনের মতো অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।
তবে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লেও পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কোনও আশঙ্কা এখনই করা হচ্ছে না। সরকার সূত্রে খবর, এখন দেশের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে। তাই নতুন করে এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে না। (সংবাদ সূত্র-ANI)
পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East) যুদ্ধের ডঙ্কা। ইরানকে আক্রমণ করে ইজরায়েল (Israel vs Iran War)। আর তারপরই আমেরিকাও জড়িয়ে পড়ে সেই যুদ্ধে। কিন্তু এর সঙ্গেই বদলাতে শুরু করেছে একাধিক হিসাব নিকেশ। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে, থমকে যায় বিশ্বের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ তেলের বিকিকিনি। এ ছাড়াও হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৫০ শতাংশ তেল আমদানি করে। তবে শুধু তেল নয়, ভারতের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম গ্যাস, দুইই ভারত আমদানি করে হরমুজ দিয়ে। আর বিশ্বব্যাপী টেনশনে দাম বেড়েছে গ্যাসের।
