Swami Ramdev : পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় পেল নতুন শিরোপা। কেন্দ্রের স্বীকৃতি পেলে এই ইউনিভার্সিটি। জানেন, ঠিক কী স্বীকৃতি পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।

Continues below advertisement

প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ঐতিহ্য সংরক্ষণে বড় পদক্ষেপ

যোগ শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠান পেল বড় স্বীকৃতি। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ঐতিহ্য সংরক্ষণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এই মিশনের আওতায় হরিদ্বারের পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি “ক্লাস্টার সেন্টার” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় হল দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান, যা এই মিশনের আওতায় নির্বাচিত হয়েছে। সম্পূর্ণরূপে যোগশিক্ষার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

Continues below advertisement

জ্ঞান ভারতম মিশনের মধ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত

এই গাঁটছড়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে হরিদ্বারে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্ঞান ভারতম মিশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই অনুষ্ঠানে যোগগুরু বাবা রামদেব ও আচার্য বালকৃষ্ণও উপস্থিত ছিলেন।

এই গাঁটছড়া কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ডঃ আচার্য বালকৃষ্ণ তথ্যের সাহায্যে এই গাঁটছড়ার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, জ্ঞান ভারতম মিশনের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৩৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে ক্লাস্টার সেন্টার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় যোগশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম ক্লাস্টার সেন্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

৫০,০০০-এরও বেশি প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষণ

এখনও পর্যন্ত পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় একাই ৫০,০০০-এরও বেশি প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষণ করেছে। প্রায় ৪২ লক্ষ পৃষ্ঠা ডিজিটাইজ করেছে ও ৪০টিরও বেশি দুর্লভ পাণ্ডুলিপির পুনরুদ্ধার ও পুনঃপ্রকাশ করেছে। এখন, একটি ক্লাস্টার সেন্টার হওয়ার পর, পতঞ্জলি এই স্কিল ব্যবহার করে আরও ২০টি কেন্দ্রকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেবে।

গবেষণা ও শিক্ষাগত রূপান্তরের এক মেলবন্ধন

এই বিষয়ে জ্ঞান ভারতম মিশনের প্রকল্প পরিচালক ডঃ অনির্বাণ দাশ বলেন, এই কেন্দ্রের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কেবল পুরোনো নথি সংরক্ষণ করা নয়, বরং সেগুলিকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগ করা। তিনি জানান, একটি ক্লাস্টার সেন্টার হিসেবে পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় যোগ ও আয়ুর্বেদ-ভিত্তিক পাণ্ডুলিপি নিয়ে গভীর গবেষণা করবে। এই কাজকে একটি “শিক্ষা বিপ্লবের” সঙ্গে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে সহজলভ্য করে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদৃষ্টির প্রতি কৃতিত্ব

অনুষ্ঠানে পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও যোগগুরু স্বামী রামদেব এই মুহূর্তকে ভারতের জ্ঞান ঐতিহ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন , জ্ঞান ভারতম মিশন হল ভারতের বিলুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টির একটি জীবন্ত উদাহরণ।