Share Market Today : টানা গতি ধরে রাখতে পারছে না ভারতের শেয়ার বাজার (Indian Stock Market)। দুই দিনের জয়ের ধারা ভেঙে ভারতীয় স্টক মার্কেটের বেঞ্চমার্ক, সেনসেক্স এবং নিফটি ৫০ মঙ্গলবার উল্লেখযোগ্য পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বুধে কি ফের পড়বে বাজার (Share Market) ?
আজ কী হয়েছে বাজারে এদিন সেনসেক্স ৮২,০৩৮.২০ পয়েন্টে খুলেছে, যা আগের ক্লোজিংয়ের ৮২,১৭৬.৪৫ পয়েন্টের তুলনায় ১,০৫৫ পয়েন্ট বা ১.৩ শতাংশ কমে দিনের সর্বনিম্ন ৮১,১২১.৭০ পয়েন্টে নেমেছে। নিফটি ৫০ আগের ক্লোজিংয়ের ২৫,০০১.১৫ পয়েন্টের তুলনায় ২৪,৯৫৬.৬৫ পয়েন্টে খুলেছে। যা পরে ১.২ শতাংশ কমে দিনের সর্বনিম্ন ২৪,৭০৪.১০ পয়েন্টে নেমেছে। যদিও শেষে ক্ষতি কাটিয়ে সেনসেক্স ৬২৫ পয়েন্ট বা ০.৭৬ শতাংশ কমে ৮১,৫৫১.৬৩ এ বন্ধ হয়। যেখানে নিফটি ৫০ ১৭৫ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ কমে ২৪,৮২৬.২০ এ দৌড় থামায়।
মিড ও স্মল ক্যাপে কী অবস্থাতবে, মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ সেগমেন্টগুলি তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল করেছে। কম লাভের সঙ্গে শেষ হয়েছে। বিএসই মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকগুলি যথাক্রমে ০.১৮ শতাংশ এবং ০.১৯ শতাংশ বেশি শেষ হয়েছে। বিএসই-তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সামগ্রিক বাজার মূলধন আগের অধিবেশনে প্রায় ₹৪৪৫ লক্ষ কোটি থেকে প্রায় ₹৪৪৪ লক্ষ কোটিতে নেমে এসেছে।
আজ কেন ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতন ?১. বিশ্ববাজারে দুর্বলতার কারণে প্রফিট বুকিংএদিন এই পতনের পিছনে দুর্বল বৈশ্বিক বাজারকে দায়ী করছেন বাজার বিশেষজ্ঞকরা। সেই কারণে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা বুকিং করেছেন আজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যাক্স বিল রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে উদ্বেগের মধ্যে জাপানের নিক্কেই এবং কোরিয়ার কোস্পি সহ এশিয়ার প্রধান বাজারগুলিতে পতন হয়েছে। সেই কারণেই নিফটি ৫০ সূচকে ৪০টিরও বেশি শেয়ার লালে ক্লোজিং দিয়েছে।
২. বিদেশি মূলধন ফ্লো কমেছে আজ ভারতের বাজারে বিদেশি মূলধন সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মে মাসে, নতুন ইতিবাচক ট্রিগারের অভাবে এফপিআইরা মাঝেমধ্যে ভারতীয় ইক্যুইটি বিক্রি করেছে। ২৬ মে, ভারতীয় ইক্যুইটিগুলির এফপিআই ক্রয় ছিল মাত্র ₹১৩৫.৯৮ কোটি। বিদেশি ক্যাপিটাল ফ্লো হ্রাস পাওয়া ভারতীয় শেয়ার বাজারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
৩. ভ্যালুয়েশন বেড়েছে বাজারেনিফটি ৫০ এর বর্তমান মূল্য-থেকে-আয় (পিই) ২২.৬ এ তার এক বছরের গড় পিই ২২.১৫ এর উপরে। দেশীয় বাজারে ভ্যালুয়েশন এখনও সেভাবে সাধারণ অবস্থায় আসেনি। যেখানে আয়ের কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, নিকট ভবিষ্যতে বাজার এই বিষয়ে সতর্ক থাকবে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু মিউচুয়াল ফান্ডগুলি প্রচুর পরিমাণে নগদ ফ্লো নিয়ে বসে আছে, তাই যেকোনো পতনের ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। হাই ভ্য়ালুয়েশনের ফলে সেলিং বাড়বে। অন্তত সেরকমই ভাবছেন জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমার ।
৪. ট্রাম্পের ট্যারিফ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাবিশ্বব্যাপী এখনও ট্রাম্পের ট্যারিফ নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে স্বল্পমেয়াদে বাজারে একটা অস্থিরতা থাকবে। সাম্প্রতিক বাজারের উত্থান ইঙ্গিত দেয় যে বাজারগুলি উন্নত ম্যাক্রো দ্বারা সমর্থিত, FY26/27-এ আয় বৃদ্ধির উন্নতির প্রত্যাশা করছে।
৫. ইতিবাচক ট্রিগারের অভাব বাজারেদীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা ইতিবাচক হলেও বর্তমান বাজারে ইতিবাচক কোনও ধাক্কার অভাব রয়েছে। তা সে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বা অন্য় কোনও খবর হতে পারে। এই অভাবের কারণেই দেশীয় বাজার লাভ বজায় রাখতে লড়াই করছে। বাজারের মনোযোগ এখন 30 মে আসন্ন Q4 GDP প্রিন্ট এবং 6 জুন RBI-এর মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)