Trump Tariff : ভারতকে আর্থিকভাবে (Indian Economy) চাপে রাখতে গিয়ে উল্টো নিজেই বিপাকে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump)। এবার দেশেই ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হল তাঁকে।
ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। যাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল ভারতীয় অর্থনীতিকেই প্রভাবিত করেনি বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাববিশেষজ্ঞ ও আইন প্রণেতারা বলছেন, এই ধরনের কঠোর শুল্ক সিদ্ধান্ত ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যা আগে সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে শক্তিশালী হয়েছে। আরও বলা হচ্ছে যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধা আমেরিকান কোম্পানিগুলির মুনাফা হ্রাস করেছে। আমদানি খরচ বৃদ্ধির কারণে উপভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়েছে।
কী বলেছেন বিরোধীরাভারতীয়-আমেরিকান কংগ্রেসম্যান অ্যামি বেরা মার্কিন কংগ্রেসে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি। বিশেষভাবে H1B ভিসার উপর $100,000 অতিরিক্ত ফি-কে অত্যধিক ও অবাস্তব বলে সমালোচনা করা হয়েছে। অ্যামি বেরা যুক্তি দেন, এই অত্যধিক ফি আমেরিকান কোম্পানিগুলির তাদের শিল্পে বিদেশি প্রতিভা নিয়োগের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এই প্রসঙ্গে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন. ট্রাম্পের এই ধরনের পদক্ষেপ কঠোর ভারতকে অন্যান্য বিরোধী শক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করতে পারে।
বেশি আমদানি খরচের জন্য সমস্যায়
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়পাল কংগ্রেসে তার ভাষণের সময় শুল্ক নীতির প্রবল সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ আমদানি শুল্ক নীতি অবশ্যই ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে, তবে এটি আমেরিকান ব্যবসা ও উপভোক্তাদের উপরও সমানভাবে প্রভাব ফেলছে।
উচ্চ আমদানি খরচ আমেরিকান কোম্পানিগুলির জন্য উৎপাদনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে, তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতায় সমস্যায় পড়ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এই পরিস্থিতি আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ বাড়াতে পরে। এর প্রভাব ভারত-মার্কিন সম্পর্কেও পড়েছে।