নয়াদিল্লি: ভারতকে নিয়ে লাগাতার মন্তব্য করে চলেছেন। ভেনিজুয়েলা প্রসঙ্গেও এবার ভারতের নাম উঠে এল আমেরিকার মুখে। তারা জানাল, ভেনিজুয়েলার তেল ভারতকে দিতে আপত্তি নেই আমেরিকার। কিন্তু আমেরিকার ঠিক করে দেওয়া বিধিনিয়ম মেনেই ভারতকে তেল কিনতে হবে। এর ফলে বাণিজ্যক্ষেত্রে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আংশিক ভাবে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। (US on India)
হোয়াইট হাউসের তরফে এই মর্মে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা IANS. আমেরিকা কি ভারতকে ভেনিজুয়েলার তেল কিনতে অনুমতি দেবে? জানতে চাওয়া হয়েছিল। এতে হ্যাঁ সূচকই জবাব দেন হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। (Venezuelan Oil to India)
এ প্রসঙ্গে আমেরিকার এনার্জি বিভাগের সচিব ক্রিস্টোফার রাইটের মন্তব্য তুলে ধরেন হোয়াইট হাউসের ওই আধিকারিক। ক্রিস্টোফার আগেই জানিয়েছিলেন, ভেনিজুয়েলার তেল সব দেশকেই বিক্রি করতে পারে আমেরিকা। ফক্স বিজ়নেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টফার জানান, ভেনিজুয়েলার তেল সর্বত্র সরবরাহে অনুমতি দিচ্ছেন তাঁরা। তবে আমেরিকার শর্ত মেনেই সেই কাজ সম্পন্ন হবে।
ভেনিজুয়েলার তেলের উপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছিল। রাতবিরেতে ঢুকে নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর, দেশের তেলের উপরও কর্তৃত্ব কায়েমের কথা জানান ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও সব দাবিদাওয়া মেনে নিয়েছেন বলে জানা যায়। এর আগে ভেনিজুয়েলার থেকে তেল কিনত ভারত। সেখান থেকে অশোধিত তেল নিয়ে সে শোধন করা হতো। আবারও ভেনিজুয়েলার তেল কিনতে পারলে, ভারতের হাতে বিকল্প রাস্তার সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনই চাহিদার জোগান দেওয়াও সম্ভব হবে।
নিউ ইয়র্কে ক্রিস্টোফার জানান, বর্তমানে ভেনিজুয়েলার কাছে যে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, তা আমেরিকা বিক্রি করবে। আগামী দিনে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন হবে, তাও আমেরিকাই বিক্রি করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সকলকে ছাপিয়ে আমেরিকাই চালকের আসনে বসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পও জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোর আওতায় আমেরিকা ভেনিজুয়েলার ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রি করবে। দেশের তাবড় তৈল সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "ভেনিজুয়েলা বিপুল সাফল্য পেতে চলেছে। আমাদের থেকে যা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা আবার বুঝে নিচ্ছি।" ভেনিজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথাও জানান তিনি।
ভেনিজুয়েলের তেল এবং খনিজ সম্পদ যে আমেরিকাই নিয়ন্ত্রণ করবে, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। কোন সংস্থা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবে, কারা উৎপাদনের দায়িত্বে থাকবে, সব ঠিক করে দেবে তাঁর সরকারই।