ওয়াশিংটন: বিভিন্ন দেশকে হুমকি-হুঁশিয়ারি দেওয়া চলছিলই। সেই সঙ্গে চলছিল চড়া হারে শুল্ক আদায়। আন্তর্জাতিক মহলের ওজর আপত্তি কিছুই খাটছিল না। কিন্তু আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টেই শেষ পর্যন্ত জোর ধাক্কা খেলেন দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরুরি ভিত্তিতে চালু করা তাঁর সরকারের আগের সব শুল্ক বাতিল করেছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্টকে তাঁর এক্তিয়ারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুল্কবাবদ এখনও পর্যন্ত যে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১২.০৬ লক্ষ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেছেন ট্রাম্প, তার কী হবে? (US Tariff Refunds)

Continues below advertisement

শুল্ক ''বেআইনি' ঘোষিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই ট্রাম্প সরকারের কাছ থেকে ‘রিফান্ড’ চাইতে শুরু করেছেন সকলে। ইলিনয়ের গভর্নর জেপি প্রিৎজকার ৯ বিলিয়ন ডলারের বিল পাঠিয়েছেন ট্রাম্পকে। ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রিৎজকারের বক্তব্য, “আপনার শুল্ক কৃষকদের প্রভূত ক্ষতি করেছে, আমাদের সহযোগীরা রুষ্ট হয়েছে, খুচরো পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে।” ক্ষতিপূরণ না পেলে আইনি পদক্ষেপ করবেন বলেও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রিৎজকার। ইলিনয়ের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১৭০০ ডলার করে দাবি করেছেন তিনি। ইয়েল ইউনিভার্সিটির দাবি, শুল্কের জেরে গত বছর ওই পরিমাণ টাকা বেশি খরচ হয়েছে প্রত্যেক পরিবারের। (US Tariffs)

শুল্কবাবদ খরচ হওয়া বাড়তি টাকা ফেরত চেয়ে ইতিমধ্যে লাইন দিয়েছে আরও একাধিক শিল্প সংস্থা, ১০০০-এর বেশি মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়েছে আদালতে। যদিও ট্রাম্প সরকার শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ট্রাম্পের টিম টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও, আমেরিকার সরকার বা সুপ্রিম কোর্ট সেই নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও নির্দেশ দেয়নি। ফলত, কী করে ওই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। টাকা ফেরত দিতে গেলে অঙ্ক ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৫.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা। 

Continues below advertisement

আমেরিকার সরকার যদি রিফান্ড দিতে এগিয়েও আসে, তাহলে কার হাতে উঠবে টাকা? আমেরিকার সাধারণ নাগরিক নন, বরং বিভিন্ন সংস্থার হাতেই ওই টাকা উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, ধরে ধরে ‘রিফান্ড’ দিতে গেলে দু’বছর সময় লেগে যাবে। আগামী পাঁচ বছর আদালতের চক্কর কাটতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট কোনও নির্দেশ দেয়নি। বরং গোটা প্রক্রিয়া বেশ ঝক্কিপূর্ণ হতে পারবে বলে উক্তি শোনা গিয়েছে। আমেরিকার Customs Agency-র পরিসংখ্যান বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শুল্কবাবদ ১৩৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ার কোনও সংস্থান নেই তাদের কাছে। ফলে টাকা ফেরত দিতে নতুন কোনও ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হতে পারে।  এর আগে, নয়ের দশকে বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ফি নিয়ে মামলা হলে, তাও বাতিল করে আমেরিকার আদালত। সেই সময় আদালতই টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। আমেরিকার শুল্ক বিভাগকে ঝামেলা পোহাতে হয়নি। 

টাকা ফেরত দিতে শুল্ক বিভাগের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ এবং নিউইয়র্কে কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের হস্তক্ষেপও চাওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাতেও প্রক্রিয়া সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ‘রিফান্ড’ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তাবড় সংস্থা, যে তালিকায় রয়েছে Costco, Revlon, Bumble Bee Fodds-এর মতো সংস্থা। বিভিন্ন উৎপাদনকারী সংস্থাও টাকা ফেরত চেয়ে মামলা করতে পারে। কারণ শুল্কবৃদ্ধির জেরে কাঁচামাল কিনতেও মোটা টাকা গচ্চা যায় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সরকার বিশেষ পদক্ষেপ করে কি না, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।