নয়াদিল্লি: ভারত-সহ ৬০টি দেশের উপর আরও শুল্ক চাপানোর ভাবনা আমেরিকার। এবার তাদের হাতিয়ার 'জোরপূর্বক শ্রম'। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা খেয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি। এবার অন্য উপায়ে বাড়তি শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা তাদের। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে। (Donald Trump Tariffs on India)

Continues below advertisement

US Trade Representative-এর তরফে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব জমা পড়েছে। বুধবার যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তাতে কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান, ব্রিটেনের উপর ১০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব রয়েছে। চিন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইৎজারল্যান্ড এবং অন্য দেশগুলির উপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ভাবনা। অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে মানুষের মতামত নেবে ট্রাম্প সরকার। তবে এই শুল্ক কার্যকর হলে, শক্তি বাড়বে ট্রাম্পের। শুল্ক সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাগুলি এড়িয়ে চলতে পারবেন তিনি। (Donald Trump Tariffs on India)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: খান স্যরের কোচিংয়ে হামলা, দেদার ভাঙচুর, চলল গুলি, ভয়ঙ্কর ঘটনা পটনায়

তবে এমনটা যে হতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল সম্প্রতি। 'জোরপূর্বক শ্রম' নিয়ে বাণিজ্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আমেরিকা। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, জোরপূর্বক লোকজনকে খাটিয়ে যে সব দেশ পণ্য উৎপাদন করে, সেখান থেকে জিনিস কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। আবার কখনও কখনও জরিমানা আদায় করা হয়। ১৯৭৪ সালের সেই বাণিজ্য আইনকে কাজে লাগিয়েই এবার অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের ভাবনা ট্রাম্পের।

US Trade Representative-এর দাবি, ৫৪টি অর্থনীতি জোরপূর্বক শ্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই দেশগুলির মধ্য়ে চিন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ইরাক, ইজ়রায়েল, জাপান, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুরও রয়েছে। আর একটি তালিকায় রয়েছে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপিয়ান ইুনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান।

আরও পড়ুন: আজই ভাঙতে চলেছে তৃণমূল? ৬০ বিধায়ককে নিয়ে স্পিকারের কাছে ঋতব্রতরা, ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য সাবিনা ইয়াসমিনের

তবে কিছু পণ্যকে অতিরিক্ত শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে, গোমাংস, কফি, কিছু ফল এবং বাদাম। কানাডা এবং মেক্সিকো নর্থ আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে শামিল। তাই তাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিছু জামা-কাপড়কেও বাদ রাখা হয়েছে তালিকা থেকে। ৬ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত জানাতে হবে সকলকে। এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে বাতিল করে দেন। তাই ঘুরপথে বাড়তি শুল্ক চাপানো হচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।