পটনা: জনপ্রিয় শিক্ষক, বিহারের ফয়জ়ল খান ওরফে খান স্য়রের কোচিং সেন্টারে হামলা। ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয় সেখানে। বেধড়ক মারধর করা হয় নিরাপত্তারক্ষীকে। সেই সঙ্গে কোচিং সেন্টারের বাইরে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে অভিযোগ উঠলেও, তা নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজও।
পটনার মুসাল্লাপুর হাটে খান স্যরের কোচিং সেন্টার রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১.৩০টা নাগাদ সেখানে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে ভিতরে ঢোকে। দেদার ভাঙচুর চলে। কোচিং সেন্টারের বাইরে ১০ রাউন্ড গুলি চলে বলেও জানা যায়। তবে ভাঙচুর হয়ে থাকলেও, গুলি চলার দাবিতে এখনও সরকারি ভাবে সিলমোহর পড়েনি।
আরও পড়ুন: আকাশে ঝাঁক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন, ঘন ঘন বাজছে সাইরেন, ফের পরস্পরকে আক্রমণ আমেরিকা ও ইরানের
খবর পেয়ে গতকাল রাতেই কোচিং সেন্টারে পৌঁছন খান স্যর। সমাজবিরোধীরা কোচিং সেন্টারে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোচিং সেন্টারের ভিতরে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খান স্যরের দাবি, তাঁর কোচিং সেন্টারের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে সম্প্রতি বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সফল ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়েছিল। এর পর থেকেই হুমকি আসতে শুরু করে। খান স্যর জানিয়েছেন, দু’দিনের মধ্যে কোচিং সেন্টার উড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আকাশে ঝাঁক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন, ঘন ঘন বাজছে সাইরেন, ফের পরস্পরকে আক্রমণ আমেরিকা ও ইরানের
এই ঘটনার নেপথ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারগুলিরও হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ খান স্যরের। তাঁর দাবি, কম খরচে ছেলেমেয়েদের পড়ান তিনি। এতে অন্য কোচিং সেন্টারগুলি পিছিয়ে পড়েছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। কোচিং সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত নিরাপত্তারক্ষী দু’-একজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলে জানা যাচ্ছে। কোচিং সেন্টারে হামলার পর বুধবার সকালে সেখানে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়াদের একাংশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। স্লোগান ওঠে, 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস', 'উই ওয়ান্ট সিকিওরিটি'।
এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। মোট ২০টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেে পুলিশ। এই ঘটনার পর সরকারি নিরাপত্তা চেয়ে আর্জি জানানোর কথা ভাবছেন খান স্যর। এই মুহূর্তে কোচিং সেন্টারের বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে কেন এই হামলা হল, এখনও কারণ জানা যায়নি।
