নয়াদিল্লি: ১০ টাকার ছেঁড়া নোট নিতে না চাওয়ায় এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড়। জন্মদিনের একদিন আগেই আত্মহত্যা ডেলিভারি এগজিকিউটিভের। বিষয়টি সামনে আসতেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত কাস্টমার এবং তার এক প্রতিবেশীকে। তারাই ওই ডেলিভারি এগজিকিউটিভকে থাপ্পড় মারে বলে অভিযোগ। (Delivery Partner Dies)

Continues below advertisement

২৪ বছর বয়সি সমীর হুসেন ডেলিভারি এগজিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পূর্ব দিল্লির বিনোদনগরের বাসিন্দা তিনি। গত ৪ অক্টোবর Bru কফির অর্ডার এসেছিল। সেই মতো কফির জার নিয়ে ৬৫  বছর বয়সি রামপাল সিংহের কাছে পৌঁছন তিনি। কিন্তু সেখানে তর্কাতর্কি শুরু হয়। (Delhi News)

জানা গিয়েছে, সমীরকে একটি ১০ টাকার ছেঁড়া নোট দিতে গিয়েছিল রামপাল। ছেঁড়া নোট নিতে রাজি হননি সমীর। সেই নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হলে তাঁর উপর চড়াও হয় রামপাল। রামপালের প্রতিবেশী, ৩০ বছর বয়সি রাকেশ ওরফে বান্টিও চড়াও হয় সমীরের উপর। এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হয় সমীরকে। শুধু তাই নয় ‘মধ্যবিত্ত’ হওয়া তাঁকে কটূক্তিও করা হয়।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: চোরবাগানকাণ্ডে ধৃত বাবু মজুমদারের ফেসবুক লাইভ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে? অভিযোগ স্ত্রীর

ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগও জানিয়েছিলেন সমীর। শেষ পর্যন্ত ৫ অক্টোবর, সোমবার আত্মহত্যা করেন। তার পর দিন, মঙ্গলবারই জন্মদিন ছিল তাঁর। জন্মদিনের একদিন আগে তিনি শেষ করে দেন নিজেকে। তদন্তে নেমে সমীরের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকটি ভিডিও খুঁজে পায় পুলিশ। মৃত্যুর আগে গোটা ঘটনা জানিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং করে যান সমীর। 

একটি ভিডিও-য় সমীর বলেন, “থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। জানি না কী হবে। ওখানে পৌঁছনোর পর জানতে চেয়েছিলাম নগদে টাকা মেটাবেন, না UPI-তে? উনি নোট জড়ো করছিলেন। বয়স্ক মানুষ বলে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করি আমি। এর পর একটি ছেঁড়া ১০ টাকার নোট দেন উনি। আমি নোট পাল্টে দিতে বলি। তাতেই দুর্ব্যবহার শুরু করি।”

ভিডিও বার্তায় সমীর আরও বলেন, “উনি বলেন, নিতে হলে নাও, নইলে দূর হও। তাতে আমি বলি, ‘টাকা না থাকলে অর্ডার দিলেন কেন?’ এতে ক্ষমতা জাহির করতে শুরু করেন উনি। জানান পলিটিক্যাল কানেকশন আছে ওঁর। আমাকে মারধরের হুমকিও দেন।”

আরও পড়ুন: ‘২৭ তারিখের আগে আত্মসমর্পণ করতে বারণ করা হয়েছিল’, চোরবাগানকাণ্ডে ধৃত বাবু, মুখ খুললেন স্ত্রী

এর পর একটি ভিডিওয় ব্যাগ থেকে ওষুধের শিশি বের করেন সমীর। বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার না পেলে আমি এটা খেয়ে নেব। আমার আত্মসম্মান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে হয়ত বিচার পাব আমি।” নিজের মায়ের উদ্দেশেও বার্তা দেন সমীর। বলেন, “তোমার ছেলে অনেক শক্ত। কিন্তু এই সমাজ বাঁচতে দেবে না।”

আরও একটি ভিডিও হাতে পেয়েছে পুলিশ, যাতে বিষের শিশি হাতে নিয়ে পান করতে উদ্যত হন সমীর। বলতে শোনা যায়, “আমি মরে যাব।”

সমীর ৫ অক্টোবর বিষপান করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর কাকা মহম্মদ শামিম। তিনি জানিয়েছেন, সমীরের মা-বাবা দক্ষিণ দিল্লির খড্ডা থাকেন। ৫ অক্টোবর ফোন আসে বাড়িতে। সমীরকে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইঁদুর মারার বিষ খেয়েছেন তিনি। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে পৌঁছে দেখেন, সমীরের অবস্থা গুরুতর। শেষ পর্যন্ত মারা যান সমীর। 

শামিম জানিয়েছেন, বাবা জাকির অসুস্থ। তাই কাজে ঢুকেছিলেন সমীর। উচ্চশিক্ষার জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। 

DCP (পূর্ব) রাজীব কুমার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে এই ঘটনায়। অভিযুক্ত রামপাল একটি দোকান চালায় এবং রাকেশ বেকার বলে জানা গিয়েছে।