নয়াদিল্লি: দীর্ঘ সময় ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হল না। মারা গেলেন ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর। অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে, গাছে বেঁধে পোড়ানো হয়েছিল তাঁকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন মনজিৎ। শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন তিনি। (Manjeet Kaur Dies)

Continues below advertisement

চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে ভর্তি ছিলেন ২৮ বছর বয়সি মনজিৎ। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্য়াগ করলেন তিনি। মনজিতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ এবং হত্যার মামলা দায়ের করেছে চণ্ডীগড় পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ হতে, দোষীদের সাজা হতে দেখতে পেলেন না মনজিৎ। (Influencer Manjeet Kaur Death Case)

আরও পড়ুন: স্বামীর প্রেমিকার বিরুদ্ধে ‘ভালবাসা চুরি’র অভিযোগ, ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেন স্ত্রী, আদালত বলল…

Continues below advertisement

মনজিতের মা কান্তাদেবীর অভিযোগ, গত ৩ জুলাই গভীর রাতে ফোন করে ডাকা হয় মনজিৎকে। শুভি এবং পিন্ডা নামের দু’জনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, চণ্ডীগড় সেক্টর ৩৪-এ একটি মদের দোকানের কাছে ডাকা হয় মনজিৎকে। সেখানে পৌঁছতেই অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। জোর করে গাড়িতে তোলা হয় তাঁকে। নিয়ে যাওয়া হয় মোরিন্ডায়। প্রথমে শারীরিক নির্যাতন চলে। পরে তুঁতগাছের সঙ্গে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গাছে বাঁধা অবস্থায় মনজিৎকে দেখতে পান একজন। আগুনের উপর কম্বল চাপা দিয়ে তিনিই মনজিৎকে উদ্ধার করেন। মনজিৎকে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রথমে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মোহালীর হাসপাতালে। ৯ জুলাই সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলগ্রহে ভেসে বেড়াচ্ছে জেলিফিশ? NASA-র ছবি ঘিরে শোরগোল

পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে বেশ কয়েক সপ্তাহ অচেতন ছিলেন মনজিৎ। ৫ অগাস্ট কিছু ক্ষণের জন্য চৈতন্য ফিরে পান তিনি। ঠিক কী ঘটেছিল ওইদিন, পরিবারকে জানান। কিন্তু চিকিৎসকদের তরফে সব চেষ্টা করা হলেও, পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ২৬ অগাস্ট মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মনজিৎ।

মনজিতের মৃত্যুর পর সেক্টর ৩৪ থানার পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪০(১)-অপহরণ, ১০৩(১)-খুন, ৩(৫)-সংগঠিত অপরাধের দায়—ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ইনস্পেক্টর শাদি লাল জানিয়েছেন, মনজিতের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। সাত বছরের ছেলে রয়েছে। যে দু’জনের নাম তুলে ধরেছে পরিবার, তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে লিভ-ইন করছিলেন মনজিৎ।

ঠিক কী ঘটেছিল ওইদিন, তার তদন্ত শুরু হয়েছে খোঁজ চলছে দুই সন্দেহভাজনের। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে পরিবারের লোকজনকেও।