নয়াদিল্লি: লালগ্রহ মঙ্গলের বুকে রহস্যময় বস্তু চোখে পড়ল এবার। মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে উড়ে বেড়াতে দেখা গেল বস্তুটিকে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র Curiosity Rover লালগ্রহের মাটিতে মোতায়েন রয়েছে। তার তোলা ছবিতেই অদ্ভুত দেখতে জিনিসটি চোখে পড়েছে। কেউ কেউ সেটিকে জেলিফিশের সঙ্গে তুলনা করছেন। (Mysterious Jellyfish on Mars)

Continues below advertisement

২০২৩ সালের ২০ অগাস্ট ওই ছবিটি তোলে Curiosity Rover. ধুলোয় ঢাকা পাহাড়ি এলাকায়, কিছু একটা ভেসে থাকতে দেখা যায়। উঁচু পাহাড়-পর্বতও চোখে পড়ে ছবিতে। ছবিটিকে ভালভাবে দেখতে যখন বড় করা হয়, দেখা যায়, বাঁ দিকে মাথার মতো কিছু একটা রয়েছে। গোটা শরীর কালো। সরু ও লম্বা পায়ের মতো দেখতে অংশ যেন ভাসছে। (NASA Mars Image)

আরও পড়ুন: জেরক্সের দোকানে ৩৪০০ আসল SIR ফর্ম, ফোটোকপি করাতে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা? উত্তেজনা নবী মুম্বইয়ে

NASA-র তরফে পর পর যে কয়েকটি ছবি আপলোড করা হয়েছিল, তাতেই ওই অদ্ভূত দেখতে বস্তু সম্বলিত ছবিটি চোখে পড়ে। ওই ছবিটি পোস্ট করার মিনিটখানেক আগে ওই জায়গারই আর একটি ছবি পোস্ট করেছিল NASA, যাতে অদ্ভুত দেখতে কিছু ছিল না। ওই ছবিটি পোস্ট করার দু’ঘণ্টা পর অন্য একটি জায়গার ছবি পোস্ট করে NASA.

মঙ্গলের বুকে প্রাচীন অণুজীব থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষণা করে NASA. পার্সিভ্যারেন্স রোভার সংগৃহীত থেকে তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে জানায় তারা। তবে মঙ্গলের বুকে বর্তমানে প্রাণের অস্তিত্ব মেলেনি বলেই দাবি NASA এবং হোয়াইট হাউসের। 

আরও পড়ুন: উপচে পড়ছে হাসপাতালের মর্গ, প্রিয়জনের সন্ধান পেতে হিমশিম সকলে, দেহ শনাক্তকরণে QR কোড চালু করল নেপাল পুলিশ

ছবিতে যে অদ্ভুত বস্তুটি চোখে পড়েছে, সেটি উড়ে বেড়াচ্ছিল কি না, তাও নিশ্চিত ভাবে জানায়নি NASA. সেটি সত্যিই কোনও রহস্যজনক বস্তু, না কি তাদেরই কোনও যন্ত্র, তাও খোলসা করা হয়নি। ফলে কানাঘুষো বেড়েছে আরও। War of the Worlds ছবিতে যে এলিয়েন দেখানো হয়েছিল, তার সঙ্গেও ছবিতে দেখা ওই বস্তুর তুলনা করছেন অনেকে। 

কেউ কেউ আবার অদ্ভুত দেখতে ওই বস্তুটিকে Mars Helicopter-ও বলছেন। ২০২১ সালে প্রথম লালগ্রহের বুকে ওড়ে ওই উড়ন্তযানটি। কিন্তু NASA-র তথ্য বলছে, কিউরিওসিটি থেকে প্রায় ২০০০ মাইল দূরে মোতায়েন রয়েছে সেটি। ফলে ওই যুক্তি ধোপে টেকেনি অনেকের কাছে।

২০১২ সাল থেকে মঙ্গলগ্রহের বুকে গেল গহ্বরে মোতায়েন রয়েছে কিউরিওসিটি রোভার। লক্ষ লক্ষ বছর আগে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকতে পারে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। সেখান থেকে নিয়মিত ছবি পাঠায় কিউরিওসিটি রোভার।