গুরুগ্রাম: ফের নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটল দেশে। ফরিদাবাদে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ। চার জন মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মেয়েটির উপর অত্যাচার চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। (Minor Girl Assaulted in Haryana)

হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সন্ধে ৭টা থেকে ২৭ অক্টোবর ভোর ৪টে পর্যন্ত মেয়েটিকে পণবন্দি করে রেখে, তার উপর অত্যাচার চালানো হয়। এর পর আধমরা অবস্থায় বাড়ির কাছে মেয়েটিকে ফেলে দিয়ে গাড়িতে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। (Haryana News)

নির্যাতিতার দিদি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর সন্ধেয় সেক্টর ১৮ বাজারে গিয়েছিল বোন। বেশ খানিকটা সময় কেটে গেলেও বাড়ি ফেরেনি সে। এর পর বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে বেরোয়। কিন্তু কোথাওই খোঁজ পাওয়া যায়নি তার। বরং ভোরবেলা বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি এসে পৌঁছয়। 

নির্যাতিতার দিদির বক্তব্য, “২৭ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বাড়িতে ঢোকে বোন। জানায়, আগের সন্ধেয় চার জন তাকে অপহরণ করে গাড়িতে তোলে। নির্জন এলাকায় নিয়োগ করে মাদক খাওয়ানো হয় তাকে। এর পর একে একে ধর্ষণ করে চার জন মিলে।”

নির্যাতিতার দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। চার অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও POCSO আইনে মামলা দায়ের করেছে ফরিদাবাদ পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিষ্ণু মিত্র বলেন, “মেয়েটি বয়ান রেকর্ড করার মতো অবস্থায় নেই। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সেক্টর ১৮ এএলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে।”

এই নিয়ে পর পর নারী নির্যাতনের খবর সামনে এল। অতি সম্প্রতি এই ফরিদাবাদেই ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তারই বাবার বিরুদ্ধে। ৪২ বছরের ওই ব্যক্তি  বাড়িতেই নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে বলে জানা যায়। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মেয়েটি বাড়িতে বাবার সঙ্গে একাই থাকত। মা অনেক আগেই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়ে যান দুই ছেলেমেয়েকে। ওই ব্যক্তি মদ্যপানে আসক্ত থাকতেন বলে খবর।

চলতি বছরে দেশে পর পর নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। নাবালিকা থেকে বয়স্কা, নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষে পাচ্ছেন না কেউ। সেই নিয়ে আলোচনা-চর্চা হলেও, অপরাধ কমছে না। বছরের মাঝামাঝি সময় আমেরিকার তরফেও সেই নিয়ে সতর্ক করা হয় নিজের দেশের নাগরিকদের। ভারতকে 'অপরাধ, ধর্ষণের দেশ' বলে উল্লেখ করে তারা।