ভুবনেশ্বর: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে কাজ করতে গিয়ে নিগৃহের শিকার। গ্রামের লোকজনের কাছে মার খেলেন দুই NGO কর্মী। জামা-কাপড় ছিঁড়ে নেওয়া হল। ভয়ঙ্কর অত্যাচার চলল। পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য ওড়িশা থেকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সামনে এসেছে। তরুণী NGO কর্মীর শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগ। (NGO Workers Assaulted in Odisha)

Continues below advertisement

ওড়িশার কন্ধমলে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় ইনটার্ন হিসেবে কর্মরত ওই ২২ বছর বয়সি তরুণী। ১৬ জুন সমবয়সি এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে কালাহান্ডির থুয়ামূল রামপুর যাওয়ার কথা ছিল। আগে কখনও থুয়ামূল যাননি তাঁরা। তাই ফোনের নেভিগেশন সিস্টেম ধরে এগোচ্ছিলেন। যাত্রাপথে রাস্তা গুলিয়ে ফেলেন ওই দুই NGO কর্মী। ভুল করে ঢুকে পড়েন রায়গড়া জেলায়। (Odisha News)

রায়গড়ার কান্ডুলগুডা গ্রাম ধরে যখন এগোচ্ছিল স্কুটার, সেই সময় কল্যাণসিংপুর থানা এলাকায় ধমুনিপঙ্গা পঞ্চায়েতে থামেন ওই দু’জন। দিন গড়িয়ে অন্ধকার নেমে এসেছিল সেই সময়। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান, যাতে ঠিক রাস্তা খুঁজে পান। সেখানে কচিকাঁচারাও ছিলেন। ব্যাগ থেকে বিস্কুট বের করে সকলের মধ্যে ভাগ করে দেন ওই তরুণী। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: সারাদিন উপোস, ফ্রুটি গলায় ঢালতেই অসুস্থ যুবক, শেষ পর্যন্ত প্রাণটাই চলে গেল

এর পরই অশান্তি মাথাচাড়া দেয়। দুই ছেলেধরা গ্রামে ঢুকেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদূর এগোতেই ওই তরুণ-তরুণীর স্কুটার আটকায় উন্মত্ত ভিড়। স্কুটারের চাবি খুলে নেওয়া হয়। দেখতে চাওয়া হয় পরিচয়পত্র। তরুণী নিজের পরিচয়পত্রও দেখান। কিন্তু তাতেও বিশ্বাস হয়নি বিক্ষুব্ধদের। তরুণীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের জামা-কাপড়। শ্লীলতাহানি করা হয় তরুণীর। তাঁর পুরুষ সহকর্মীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। 

আহত অবস্থায় ওই তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করেন বিজেপি-রই একাংশ। খবর দেওয়া হয় থানায়। কিছু জন মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় গোটা ঘটনা বন্দি করেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রায়গড়ার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় দু’জনকে। চিকিৎসার পর দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এসপি রাজ প্রসাদ। 

তদন্তে নেমে গ্রামের ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর তাতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে বা যারা যুক্ত, কাউকে রেয়াত করা হবে না। যাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন নাবালকও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মন্দির, ভিতরে আটকে পুণ্যার্থীরা, বাড়ছে হতাহত, ভয়ঙ্কর ঘটনা মহারাষ্ট্রে

ওই তরুণী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্কুটার আটকে প্রথমে একজন তাঁদের এগোতে বারণ করে। সামনে রাস্তা খারাপ বলে জানায়। সেই মতো স্কুটার ঘোরাচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই স্কুটারের চাবি খুলে নিতে উদ্যত হয় ওই হামলাকারী। আরও লোক জমা হয়ে যায়। তাঁদের উপর চড়াও হয় সকলে মিলে। ওই তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর সহকর্মী কোনও রকমে স্কুটার চালু করে পালাতে উদ্যত হয়। কিন্তু একটি জমিতে স্কুটারের চাকা পিছলে যায়। তাতেই তাঁদের ধরে ফেলে উন্মত্ত ভিড়। তাঁর জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেয় সকলে মিলে। শ্লীলতাহানি করা হয়। ওই তরুণী বলেন, “ নিগ্রহ করা হয়েছে, জামা-কাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে, অশালীন ভাবে স্পর্শ করেছে আমাকে।সমাজসেবা করতে গিয়েছিলাম। আমি আতঙ্কিত। বাড়ি ফিরে যেতে চাই।”

পুলিশ জানিয়েছে, আরও লোকজন যুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে এই মুহূর্তে। আক্রান্তরা এতটাই আতঙ্কিত যে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। মনোবিদরা দেখছেন। চিকিৎসা সম্পূর্ণ হলে তবেই পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।