কলকাতা: ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ও রাখী বন্ধন উৎসব উদ্‌যাপন করছে কালীঘাট-তৃণমূল। আর সেই মঞ্চ থেকে একাধিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর কথায় কখনও উঠে এল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা, তো কখনও আবার বিজেপির (BJP) শেষের শুরু হওয়ার কথা। 'মোদিবাবুর সাহায্য নিয়েও দেড় কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারছে না...', এই বলেই ক্যাথিড্রাল রোড থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Continues below advertisement

ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ও রাখী বন্ধন উৎসব উদ্‌যাপনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যারা মানুষের জন্য কাজ করবে বলে এসেছিল, এই অগস্ট মাসের ১ তারিখে চিনির দাম ছিল ৪০টাকা, আজ চিনির দাম ৭০টাকা। পেঁয়াজ ছিল ২০টাকা কেজি, আজ এক কেজি পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা, বাজারে কিনতে গেলে একটা পাতিলেবু বিক্রি হচ্ছে ৯টাকায়। সর্ষের তেল ২০০টাকা পার, পেট্রোল ১১৫, ডিজেল ১০০ পার। বলেছিল মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেব, এই যে নেত্রী বসে আছেন, সিঙ্গল ইঞ্জিন চালিয়েছে। সিঙ্গল ইঞ্জিন চালিয়ে আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। আর মোদিবাবু, শুভেন্দু অধিকারী, একদিকে কেন্দ্র, একদিকে রাজ্য, ডবল ইঞ্জিনের সরকার, মোদিবাবুর সাহায্য নিয়েও দেড় কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারছে না। এটাই পার্থক্য।" 

একইসঙ্গে অভিষেক ডবল ইঞ্জিন সরকারকে আক্রমণ করে আরও বলেন, "আমাদের সরকার ২০২৬ সালে বাজেট পরিবেশন করার এক মাসের মধ্যে ৮০ লক্ষ যুবক-যুবতীকে যুবসাথী ভাতা দিয়েছিল ১৫০০ টাকা করে। আজ প্রায় ৭৫ লক্ষ যুবককে বাদ দিয়ে দিয়েছে, ১ কোটি মহিলাকে বাদ দিয়েছে। আমরা বাংলার মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কী চাই? ডবল ইঞ্জিন? না সিঙ্গল ইঞ্জিন? মোদিজির গ্যারান্টি না দিদির ওয়ারেন্টি? বাংলার মানুষ বলেছিল, দিদির ওয়ারেন্টি। যারা লোভে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে ৩০০০ পাব, আজ দেখছেন তো সমাজ মাধ্যমের ভিডিয়োগুলো? ছোটবেলায় মা-ঠাকুমারা বলত, লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।" 

Continues below advertisement

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, "আজ শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, আমরা ২০৮। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে মনে করিয়ে দিই, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৬ সালে কলকাতা থেকে বলেছিল, আমরা ২৩৫ ওরা ৩০। বাকি ৫ বছরে সিপিএমকে জীবাশ্ম করে দিয়েছিল বাংলার মানুষ। আপনাদের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। বাকি ৫ বছর পর দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। গণতন্ত্রে শেষ কথা পুলিশ বলে না। বিজেপির নেতারা বলে না। বলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। আর ওপরওয়ালা সব দেখছেন। ওপরওয়ালা ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না। সকলকে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে হবে।"