পুরুলিয়া : ভোট-মুখী পশ্চিমবঙ্গে চড়ছে রাজনীতির পারদ। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে শাসক থেকে বিরোধী উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিশানা শানাচ্ছে। সঙ্গে ছুঁড়ছে চ্যালেঞ্জও। এবার পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পুরুলিয়ায় 'রণ সংকল্প সভায়' বক্তব্য রাখার সময় অভিষেক বলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে সরকারকে (রাজ্য সরকার) প্রতি বছর ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে বলুন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যদি ১০ পয়সার অবদান দেখাতে পারেন আমি রাজনীতি করব না। ২৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। মিথ্যবাদীদের দল, বড় বড় ভাষণ ?"
গত ১৭ জানুয়ারি মালদায় সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভামঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তার অন্যতম ছিল, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা। মোদি বলেছিলেন, "আমি চাই, দেশের বাকি অংশের মতো বাংলার গরিবরাও ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পান। এখানে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা লাগু হোক। কিন্তু, আজ বাংলা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র এমন রাজ্য যেখানে ৫ লক্ষ টাকার আয়ুষ্মান যোজনা লাগু হতে দেওয়া হয়নি। বিগত কয়েক বছরে এই যোজনায় দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ নিজেদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু, তৃণমূল বাংলায় গরিব ভাই-বোনদের আয়ুষ্মান যোজনার লাভ নিতে দেয় না। এত নির্মম সরকারের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় প্রয়োজন।" এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেক বলেন, "এই যে বলছেন, আয়ুষ্মান ভারত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নাকি করতে দেয়নি। পুরুলিয়ার ভাইয়েরা শুনুন, আপনার হাতে যদি স্মার্ট ফোন থাকে, বাড়িতে যদি টিভি-মোটর বাইক থাকে, রেডিও থাকে-বাড়িতে পাকা ছাদ হয়, আপনি আয়ুষ্মান ভারতের কোনও লাভ পাবেন না। এখানে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে স্মার্ট ফোন রয়েছে। যাদের হাতে স্মার্ট ফোন রয়েছে তাঁরা কেউ আয়ুষ্মান ভারত পাবেন না। এই কন্ডিশনগুলো ভারত সরকার বেঁধে দিয়েছে। মোদি সরকার। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথী, আপনার হাতে ফোন থাকলেও পাবেন, না থাকলেও পাবেন। বাড়িতে টেলিফোন থাকলেও পাবেন, না থাকলেও পাবেন। স্কুটার-মোটর বাইক থাকলেও পাবেন, না থাকলেও পাবেন। টিভি থাকলেও পাবেন, না থাকলেও পাবেন। বাড়িতে পাকা ছাদ থাকলেও পাবেন, না থাকলেও পাবেন। যদি বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত করত তাহলে বাংলায় ১০ কোটির মধ্যে ৯০ লক্ষ মানুষ আয়ুষ্মা ভারত পেত। ৯ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ পেত না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথী ১০ কোটি মানুষ পাচ্ছেন।"